
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আরও আট আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে র্যাব-১০ মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে চারজনকে এবং র্যাব-৪ সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ, ইমরান, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, সাব্বির আহমেদ ও মো. ওয়াসিম।
এর আগে এ মামলার প্রধান আসামি জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান।
র্যাব জানায়, গত ৫ আগস্ট আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় ৫৮ বছর বয়সী এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি অটোরিকশা গ্যারেজে। গ্যারেজের মালিককে একটি প্রাইভেটকারের চালক ও তার সহযোগীরা মারধর করছিলেন। বিষয়টি দেখে আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যারেজে একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে বৃদ্ধ মালিককে মারধর করা হচ্ছিল। এ সময় আলতাফ প্রতিবাদ করায় হামলাকারীদের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে তাকে মারধরে জড়িয়ে পড়ে।
আলতাফ নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিলেও হামলাকারীরা এতে থামেনি। বরং তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে আলতাফ তার ছেলে আরিফুলের মালিকানাধীন একটি পোশাক কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরাও তার পিছু নিয়ে সেখানে যায়। পরে তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে আনে এবং কারখানার ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
এরপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আলতাফ ও তার ছেলে আরিফুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় কারখানার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করে হামলাকারীরা।
পরে স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
র্যাব-১০ জানায়, গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানার আওতাধীন লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে র্যাব-৪ সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার আপন কিশোর গ্যাংয়ের একজন দলনেতা এবং মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, হামলার সময় আপন স্টিলের পাইপ দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেনের মাথায় আঘাত করেন। আর জিহাদ ছুরি দিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন। ঘটনার সময় আসামিরা সবাই মাদকাসক্ত ছিলেন।
তিনি বলেন, বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধর করতে দেখে আলতাফ মানবিকতার জায়গা থেকে প্রতিবাদ করেছিলেন। আর এ কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিরা তার ওপর হামলা চালায়।