1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা হাউজিং ডিভিশনে অনিয়মের অভিযোগ: নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমানকে ঘিরে বিতর্ক - আজকের কাগজ
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা হাউজিং ডিভিশনে অনিয়মের অভিযোগ: নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমানকে ঘিরে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:৩৩ পিএম
শেয়ার করুন

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা ডিভিশনে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমানকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারির অনাপত্তি পত্র, ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন, আবাসিক প্লটকে বাণিজ্যিক প্লটে রূপান্তরের, প্লট/ফ্ল্যাট হস্তান্তরের জন্য মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন প্রেরন, সরকারী ফি/কিস্তির টাকা জমাদেয়ার চালান পাশ সহ বিভিন্ন সেবা পেতে গেলে সেবা গ্রহীতাদেরকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি এবং দিতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ ।
উপসহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী হয়েছে জিয়াউর। ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে জিয়াউর রহমান আছেন বহাল তবিয়তে। ৫ই আগস্ট ত্রর পর নিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলীর পদোন্নতি। তাদের বিরুদ্ধে মিরপুরে ছাত্র জনতার মিছিলে গুলি করে মানুষ হত্যার অভিযোগ ও আন্দোলনে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অথ যোগানদাতার অভিযোগ রয়েছে।
জিয়া ছিলেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী। কিন্তু কপাল গুনে তিনি এখন নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে খুলনা ডিভিশনে রয়েছেন। জিয়াউর উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করেন। সেই নিয়োগ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও মিডিয়া ও দুদক কে ম্যানেজ করে সব কিছু ধামা চাপা দিয়ে রেখেছে। ফ্যাসিবাদের পুরোটা সময় বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের নেতা সেজে ফুলে ফেপে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। থাকেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সাড়ে তিন কোটি টাকা বাজার মূল্যের ফ্ল্যাটে ।
এছাড়াও হেমায়েতপুর আলম নগর হাউজিং এ রয়েছে ০৪ টি ফ্ল্যাট, হেমায়েতপুর তেঁতুল ঝরা মৌজায় – ১০ কাঠা জমি, রাজধানীর উত্তরা দক্ষিণখান এলাকায় ০৭ তলা বাড়ি, খুলনা বয়রা হাউজিং এস্টেটে স্ত্রী ও বেনাম ৩/৫ কাঠার ০২টি প্লট। মাগুরা জেলার সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের ২০৯ জগদল মৌজায় নামে বেনাম ০৭ একর জমি, জাগৃক মোহাম্মদপুর সাতমসজিদ রোডে নির্মানাধীন দোলনচাঁপা আবসিক ফ্ল্যাট প্রকল্পের ভবন নং – ০৪, ফ্ল্যাট নং- বি/১, ফ্ল্যাট সাইজ – ১৮৫০ বর্গফুট।

বাবা জীবিত থাকাকালী নিজের অবৈধ টাকায় বাবার নামে অগণিত জমি, দোকান ক্রয় করে ভাই বোনদের নামে না দিয়ে নিজের নামে হেবা দলিল করে তা বৈধ করেছেন তিনি। নিজের গ্রামের বাড়িতে বানিয়েছেন বাংলো বাড়ি। গুনজন শোনা যাচ্ছে শেয়ারে বিভিন্ননামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ির শোরুম দিয়ে নতুন ব্যবসা শুরু করেছেন তিনি। নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক ০১ কমচারী বলেন গত ১৯ বছরে যত টাকার মালিক হয়েছেন জিয়া স্যার সম্ভবত তিনি আর চাকুরী করবেন না।
ফ্যাসিবাদের দীঘ সময়ে তিনি ঢাকার মিরপুর ও মোহম্মদপুর ডিভিশনে পোষ্টিং নেন। মিরপুরের ভূমিদস্যু সাবেক এম পি ইলিয়াস মোল্লার লোক ছিলেন।
মোহাম্মদপুরে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের নেক্সাসকে তিনি অর্থ সাহায্য দিয়ে নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন। ফেসিষ্ঠ সরকারের অনেক মন্ত্রী, এম পি, মেয়র ও দলীয় লোকের অথ যোগানদাতা ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমান।
জিয়ার দূর্নীতি তদন্তে দুদুক থেকে জাগৃক গত ৫/১১/২০২৪ খ্রিস্টাব্দ তারিখে দুদকের সহকারী পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-২) এস, এম রাশেদুল হাসান স্বাক্ষরিত ০০.০১,০০০০,৫০২,০৩,০০৬,২০/৪২২২৫ স্মারকে জিয়ার তথ্য চেয়ে তাগিদ পত্র দেয়া হয়েছে। সেই স্মারকে জিয়ার ব্যক্তিগত নথি; সার্ভিস বহি এবং তার পদোন্নতি সংক্রান্ত সকল রেজুলেশন; গ্রেডেশন লিস্ট/ জোষ্ঠতার তালিকা, জাগৃকের পদোন্নতি সংক্রান্ত নীতিমালার সত্যায়িত ফটোকপি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১.৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও জাগৃক কোন তথ্য সরবরাহ করেনি।
জিয়ার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে দূর্নীতির অভিযোগ গুলোকে কর্তৃপক্ষের প্রশাসন আমলে না নিয়ে উল্টো মাসিক মাশুহারার বিনিময়ে তাকে সহযোগিতা করছেন প্রশাসন বলে অভিযোগ উঠেছে ।
চাকুরীর ১৯ বছরের মধ্যে প্রায় ১৬ বছরেই ঢাকায় চাকরি করেছেন তিনি। মিরপুর, মোহাম্মদপুর ডিভিশনে চাকরি করে জমিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। মোহাম্মদপুর ডিভিশনের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী থাকাকালে তৎকালীন চেয়ারম্যান এর সরকারী কোয়াটার প্রায় তিন কোটি টাকার আসবাবপত্র ভাউসার দিয়ে কিনে দিয়েছেন। টাকা অনুযায়ী জিনিসপত্রের মান খুবই খারাপ ছিল। শুধুমাত্র চেয়ারম্যান কে রাজি খুশি করে ঢাকায় থাকার জন্য এগুলো করেছেন তিনি। ওই বাসায় প্রায় প্রতি বছরই মেন্টালেন্সের টাকা বাবদ ভুয়া বিল ভাউচার উঠিয়ে জিয়াউর রহমান সরকারি অনেকগুলো টাকা নষ্ট করেছেন।
কর্মচারীরা অভিযোগ করেন কিছুদিন আগে খুলনা ডিভিশনে পিকনিকের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন তিনি এগুলো অফিসের ভুয়া ভাউচার বানিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে ঊর্ধ্বতন স্যারদেরকে আনন্দ দেওয়ার জন্য করেছেন। টাকা আসে কোথা থেকে। এখানে প্রায় অফিস থেকে ২০ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন তিনি।
জিয়া খালিশপুর হাউজিং এষ্টেটের কাগজের মারপ্যাচ ভুল বুঝিয়ে তিনটি প্লট তার স্ত্রীর নামে বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি উন্নয়ন প্রকপ্লের ঠিকাদারের বিল পরিশোধের ২% টাকা আদায় করেন। তার এই স্বেচ্ছাচারিতার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে গোটা জাগৃক। ফ্যাসিবাদী আমলে সাবেক পূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারের কেশিয়ার খ্যাত এই কর্মকর্তা এখনও লূটপাটতন্ত্র কায়েম রেখেছেন। খুলনা ডিভিশনের আওতায় বিভিন্ন হাউজিং এষ্টেটের সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাধারণ নামজারি বা নকশা ছাড়পত্রের মতো নিয়মিত সেবার ক্ষেত্রেও “অঘোষিত ফি” ছাড়া কাজ এগোয় না। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি সিন্ডিকেট এসব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে এবং নির্দিষ্ট হারে টাকা আদায় করে জিয়ার কাছে পৌছে দেয়।
এক ভুক্তভোগী বলেন,“অফিসে গেলেই বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়। পরে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে বলা হয় নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়ে যাবে। টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়।”

জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ঢাকায় কর্মরত থাকা এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের আশ্রয়ে থেকে সুবিধা নিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন।

সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের মিরপুর ডিভিশন-২ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ঢাকার মিরপুরের ”গৃহসূচনা আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মান প্রকল্পের” ইউরোপ সফরে জিয়াউর রহমানের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ই/এম ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী লিফট সংক্রান্ত কার্যক্রম দেখেন এবং প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ওনাকে বাদ দিয়ে এবং প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট আরও দুইজন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট নয়, ঢাকাতেও কর্মরত নয় এমন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী, খুলনা ডিভিশন টাকার বিনিময় কিভাবে ইউরোপ ভ্রমণে পাঠানো হলো তা এখন কর্মকর্তা- কর্মচারীদের মুখে মুখে । তাছাড়া তিনি একইভাবে ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে গত ১৬ বছরে আরও দুইবার ইউরোপ ভ্রমণে গিয়েছেন। একজন কর্মকর্তা কতবার ইউরোপ ভ্রমণে যাবেন । কর্তৃপক্ষের কি আর কোন যোগ্য কর্মকর্তা নাই। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যারা প্রকল্পে সরাসরি কাজ করছেন, তাদের বাদ দিয়ে বাইরের একজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক।”
এইসব অভিযোগের কারণে হাউজিং কর্তৃপক্ষের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সিন্ডিকেটের কারণে সৎ কর্মকর্তারা কাজ করতে পারছেন না।
এক কর্মকর্তা বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে পুরো প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে অফিসে ও মুঠো ফোনে পাওয়া যায়নি।
কর্তৃপক্ষের খুলনা ডিভিশনে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমানকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে প্রয়োজন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত ।
জনগণের প্রত্যাশা যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে; আর যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, তবে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো হবে। কারণ জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতাই একটি সুশাসিত রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।

শেখ হাসিনার চাচা শেখ কবিরের সাথে

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *