
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার রোধে কুড়িগ্রামে কঠোর বার্তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়ে প্রশাসন বলেছে, গুজব ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে মানুষ দ্রুত তথ্য পাচ্ছে, তবে একই সঙ্গে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য শেয়ার করার কারণে অনেক সময় সমাজে বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সংবেদনশীল তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা নিশ্চিত করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। গুজব বা অপপ্রচার চোখে পড়লে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করুন। সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।”
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, সহকারী কমিশনার ফাহাদ বিন সালাউদ্দিন ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ নুর বখত এবং এনসিপির জেলা সভাপতি মুকুল মিয়া বক্তব্য রাখেন। তারা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক অপপ্রচার বন্ধে সব মহলের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বক্তারা একমত পোষণ করেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়ানো গেলে গুজব ও অপপ্রচারের বিস্তার কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।