1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দিলেন শ্রমিক দলের নেতা - আজকের কাগজ
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দিলেন শ্রমিক দলের নেতা ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগকর্মীর মৃত্যু, ওসি প্রত্যাহার স্বস্তিকার হাতে ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’, কী বললেন রচনা? প্রধানমন্ত্রীর সফরে যোগ দিতে রাতে ঢাকা ছাড়বেন দুই মন্ত্রী পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জামায়াত সমর্থিত ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ জাহেদ উর রহমান প্রসঙ্গে বক্তব্য স্পষ্ট করল ভারত আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল তারেক রহমানের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দিলেন শ্রমিক দলের নেতা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬ ৯:৩১ পিএম
শেয়ার করুন

পাবনার বেড়া উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা না পেয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে মারধর ও হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক দলের নেতা রিপন সরদার ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে বেড়া সিঅ্যান্ডবি এলাকা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত ব্যবসায়ীকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৪০) বেড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনজেল খানের ছেলে। তাঁর হোটেল ও গাড়ির ব্যবসা রয়েছে।

আর অভিযুক্ত রিপন সরদার (৩৫) সাঁথিয়া উপজেলার করমজা সরদারপাড়া গ্রামের পাশা সরদারের ছেলে। তিনি সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

থানায় করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বেড়া পৌরসভার সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মার্কেট নির্মাণ করছেন ব্যবসায়ী দুই ভাই গোলাম মোস্তফা ও মিজানুর রহমান। গত শুক্রবার শ্রমিক দলের নেতা রিপন তাঁর লোকজন নিয়ে এসে দুই ভাইয়ের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দু-তিন দিনের মধ্যে চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যান।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর চাঁদা না পেয়ে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিপন সরদারসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলযোগে এসে মিজানুর রহমানকে তুলে পার্শ্ববর্তী সাঁথিয়া উপজেলার করমজা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মহরম সরদারের অফিসে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তুলে নিয়ে যাওয়ার পর মিজানুর রহমানকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর হাতে থাকা প্রায় দেড় ভরি ওজনের দুটি সোনার আংটি ও নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। মারধরের ফলে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের হাত ও পা ভেঙে গেছে বলে পরিবারের দাবি।

এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাইপ দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে তাঁকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় বেড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অভিযুক্ত রিপন সরদার, করমজা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মহরমসহ কয়েকজন তাঁদের পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। সে সময় সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি মুচলেকা নেওয়া হয়। মুচলেকায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর বর্তাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সম্প্রতি তাঁরা আবারও চাঁদা দাবি শুরু করেন।

আহত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের যৌথ পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কাছে আলাদাভাবে চাঁদা দাবি করা হতো। এর আগে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছিল। সম্প্রতি আবার চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা মূল্যের দুটি সোনার আংটি এবং নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওরা আমাকে আগে মারছে, তাই আমি মারছি। ওরা এর আগে সেনাবাহিনীর কাছে আমাকে নিয়ে অভিযোগ করে, কিন্তু সেনাবাহিনী সেই অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি, বরং ওদেরকে পানিশমেন্ট দেওয়া হয়েছে। এরপর ওর ভাই আমাকে বলছে, ভাই, যা হওয়ার হয়েছে, আমরা সমস্যাটা সমাধান করে ফেলি। কিন্তু ওরা এই সমস্যাটা সমাধান করেনি এবং ওরা এখনো আওয়ামী লীগ আমলের মতো ভাব নিয়ে চলে। আমার লোকজন দু-একটা বাড়ি দিয়েছে, এটা নিয়ে মিথ্যা কথা বলে লাভ নাই। আর চাঁদা ও আংটির কথাটা মিথ্যা, আমি এটা নেই নাই। আর আমি এই ধরনের রাজনীতিও করি না। মূলত ওরা আওয়ামী লীগ করে বলেই আজকে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার বলেন, ‘এই ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁরা এলেই মামলা নথিভুক্ত করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই বিভাগের আরো খবর