
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে উপকূলে ৭ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত। নদীর তীরে বেড়ীতে বসবাস ফারজানা আক্তারের। স্বামী শরীফ উদ্দিন এলাকার বাইরে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় মোবাইল যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন। সিত্রাংয়ের প্রভাব আর আমাবশ্যার প্রবল জোয়ারে ঘরে পানি ঢুকে চৌকি ডুবে ডুবে অবস্থায় প্রসব বেদনা ওঠে ফারজানার। ঘরে নেই কোনো পুরুষলোক। মানসিকভাবে শক্ত ও প্রতিকূল পরিস্থিতি সংগ্রাম করে একজন ধাত্রীর সহযোগিতায় কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি।
সকাল হতে চারিদিকে চাউর হতে লাগে সংগ্রামী মা ও তার কন্যা সন্তানের জন্মের কাহিনী। কাল বিলম্ব না করে এলাকার সবাই নাম রাখলেন সিত্রাং। জেলার সর্বত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদপত্রে প্রচার হতে লাগল সিত্রাং তাণ্ডবে সিত্রাংয়ের জন্ম। ঘটনাটি ঘটেছে হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের চতলা ঘাট এলাকায়।
এমন এক সাহসী মাকে প্রেরণা যোগাতে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ওই নবজাতকের বাড়িতে পৌঁছান। খাদ্যদ্রব্য ও নগদ অর্থ তুলে দেন পরিবারের হাতে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সিত্রাংয়ের (নবজাতকের) দায়িত্ব আমি নিলাম। তার জন্য আমি নতুন জামা ও মিষ্টিসহ উপহার এনেছি। ইউএনও ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে যেকোনো সমস্যায় জানানোর জন্য। এছাড়াও মুজিব বর্ষের ঘর দেয়া হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নদী গর্ভে তাদের ভিটে বিলীন হয়ে গেছে এবং তাদের বেড়ির পাশে বসবাস। এজন্য তাদের মুজিববর্ষের ঘর উপহার দেয়া হবে না।’
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম হোসেন বলেন, একজন সংগ্রামী মা ফারজানা আকতার যে কঠিন দুর্যোগের সময়ে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন তা অকল্পনীয়। তাই তার সাহসিকতাকে অভিনন্দন জানাতে জেলা প্রশাসকসহ আমরা নবজাতককে দেখতে এসেছি।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইসরাত সাদমীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম সরওয়ার, হরণী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো: আখতার হোসাইন প্রমুখ।
Leave a Reply