
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও ভিকটিমের মোবাইল উদ্ধার করে।
এই ব্যাপারে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বিস্তারিত জানান,আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে।
তিনি জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পড়ৈইকরা ইউনিয়নের চেনামতি এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামির নাম রিমন বড়ুয়া প্রকাশ তেজু প্রকাশ তেজপ্রিয় বড়ুয়া তার পিতা: বেশান্ত বড়ুয়া।
ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আনোয়ারা থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঘটনার পর আসামি দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনের চেষ্টা করে। জেলার বিভিন্ন থানা এলাকাসহ সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান, গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্লেষণ এবং তথ্য প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে রোববার রাতে পটিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও আনোয়ারা থানা পুলিশের যৌথ টিম।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে বলে জানান এসপি মাসুদ আলম।
রিমন প্রকাশ তেজু স্বীকারোক্তিতে পুলিশকে জানায়, ভিকটিমের বাড়িতে সংরক্ষিত সুজন বড়ুয়ার ঋণ সংক্রান্ত স্ট্যাম্প চুরির উদ্দেশ্যে সে একটি চাকু নিয়ে বাড়ির পিছনের দরজার বাইরে ওঁৎ পেতে ছিল। এ সময় খুন হওয়া এনি বড়ুয়া ঘর থেকে বের হয়ে আসামিকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে আসামি তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করে। পরে তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া মায়ের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় এনি বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারের পর আসামির দেখানো মতে ভিকটিমের বাড়ির পিছনের খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পটিয়া রেললাইনের পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া এনি বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার আরো জানান, আসামি তার চাচাতো ভাই সুজন বড়ুয়ার কাছ থেকে একলক্ষ সতের হাজার টাকা সুদ দেয়ার শর্তে টাকা নেন কিন্তু ঠিকমতো কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় সে স্ট্যাম্প ফেরত নিতে আসে। ভিকটিম এবং আসামির মধ্যে কোন ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিলনা, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি পুলিশকে জানায় একমাত্র স্ট্যাম্প নিয়ে যাওয়াই ছিল তার উদ্দ্যেশ্য।
এসপি বলেন, দ্রুততম সময়ে হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
একই ভাবে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বদা বদ্ধপরিকর।