
চরফ্যাশন উপজেলায় প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে মাত্র ১৫ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে সরকারি হাসপাতাল। সর্বশেষ ২০২২ সালের জনশুমারির হিসেবে উপজেলার মোট নারী-পুরুষের সংখ্যা ৫ লাখ ১৮ হাজার ৯২৭ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১০০ শয্যায় উন্নিত হলেও মাত্র ৫০ শয্যার অনুমতিতে চলছে কার্যক্রম। যার কারণে রোগীর অত্যাধিক চাপের তুলনায় বেডের অভাবসহ জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জানা যায়, বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এছাড়া নিয়মিত শতাধিকের বেশি রোগী এ হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। ২৪ ঘণ্টা খোলা জরুরি বিভাগেও বিপুল সংখ্যক রোগী সেবা নিতে আসেন। শুধু চরফ্যাশন নয়, পার্শ্ববর্তী দ্বীপ উপজেলা মনপুরাসহ চরাঞ্চল থেকেও অসংখ্য রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।
হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর মা জাহানারা বেগম বলেন, ৬ মাস বয়সী সন্তান হামে আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহ ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, “পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাচ্ছেন না। হাসপাতালের টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানিরও সংকট রয়েছে। আমার সন্তানের অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার চিন্তা করছি।”
প্যাথলজি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক পরীক্ষা হাসপাতালের বাইরে করাতে হচ্ছে, যার ফলে রোগীদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। বিভাগটিতে সেল কাউন্টার (ব্লাড কাউন্ট) মেশিন, ল্যাব রোটেটর, আধুনিক মাইক্রোস্কোপ, রেফ্রিজারেটর, সেন্ট্রিফিউজ মেশিন এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যানালাইজারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে অনেক পরীক্ষা পুরোনো মাইক্রোস্কোপিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাকলুকুর রহমান বলেন, “৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য ৪২ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছেন মাত্র ১৫ জন। এছাড়া ১০ জন কনসালট্যান্ট থাকার নিয়ম থাকলেও রয়েছেন মাত্র ২ জন। জনবল সংকটের কারণে রোগীদের প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশীরা বলছেন, চরফ্যাশনের বিশাল জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে দ্রুত চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধি করা হোক।