1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে চট্টগ্রামে - আজকের কাগজ
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আমি না থাকলে ইসরাইলেরও অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘১৬ বছর ধরে আমাকে বুলিং করা হচ্ছে’, ক্ষোভ ঝাড়লেন প্রভা কালিয়াকৈরে বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, যানবাহন চলাচলে ধীরগতি ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মসূচি দুঃখজনকভাবে গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি: প্রধানমন্ত্রী পর্তুগালে বেনজীরের ৫২ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পাঁচ বাড়ি! চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে চট্টগ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে কামরাঙ্গীরচরে যুবক খুন, গ্রেপ্তার ২ শূন্যরেখায় দুই শিশুর কান্না, এক মায়ের আর্তনাদ—‘আমরা বাঁচতে চাই’ নওগাঁয় দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক হাসপাতাল ছাড়লেন সেই আলোচিত শিবির নেতা জিসান

চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে চট্টগ্রামে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ ৯:৩৭ পিএম
শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় চাইনিজ ইকোনোমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) নামে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হচ্ছে। এজন্য ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট অনুমোদন ও স্বাক্ষরের অনুমতির জন্য প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির পরবর্তী সভায় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং রপ্তানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় সব এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০’-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো উন্নয়ন ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রতিষ্ঠিত হয়।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ অনুযায়ী এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ০.৪৫ শতাংশ থেকে ২.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের উদ্দেশ্যে বেজা কাজ করে যাচ্ছে।

আগামী পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর জিটুজি (গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট) ভিত্তিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে চাইনিজ ইকোনোমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) স্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বেজা এবং চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ২০১৪ সালের ৯ জুন একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠার জন্য চীন সরকার কর্তৃক মনোনীত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিএইচইসি) ও বেজার মধ্যে ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর ‘অ্যাগ্রিড টার্মস অব কো-অপারেশন অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’ এবং ২০১৭ সালের ১৫ জুন ‘শেয়ারহোল্ডার্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তীতে অনিবার্য কারণবশত ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট ও ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি। ফলে সিএইচইসির মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেভেলপার পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ১৬ জুলাই বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) সিইআইজেডের নতুন ডেভেলপার হিসেবে মনোনয়ন দেয়।

পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১১ আগস্ট বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সিআরবিসিকে ডেভেলপার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর ধারাবাহিক কারিগরি ও নীতিগত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২১ জুন বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে ‘অ্যাগ্রিড টার্মস অব কো-অপারেশন অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদনক্রমে শেয়ারহোল্ডার্স অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়।

গত ২০২৫ সালের ১ মে বাংলাদেশস্থ চীনা দূতাবাস থেকে জানানো হয়, সিআরবিসির শতভাগ মালিকানাধীন দুবাইভিত্তিক বিইজিএসিএইচ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট এফজেডসিও হলো সিআরবিসির সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনের অধীনে দুবাইয়ে নিবন্ধিত এবং সিইআইজেডের জন্য মনোনীত ইনভেস্টমেন্ট ভেহিকেল হিসেবে চীনা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও অনুমোদন পেয়েছে।

এছাড়া সিআরবিসির পক্ষে বিইজিএসিএইচ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট এফজেডসিওকে ইমপ্লিমেন্টিং ডেভেলপার হিসেবে সিইআইজেড স্থাপনের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ওই চিঠিতে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে বেজা, সিআরবিসি এবং বিইজিএসিএইচের মধ্যে ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, শেয়ারহোল্ডার্স অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী সিইআইজেড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি স্পেশাল পারপাস কোম্পানি (এসপিসি) গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার প্রস্তাবিত নাম ‘বাংলাদেশ সিইআইজেড লিমিটেড’ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই কোম্পানির শেয়ার কাঠামো অনুযায়ী বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ৩০ শতাংশ এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) ৭০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করবে।

এসপিসিতে বেজার ৩০ শতাংশ শেয়ার মূলত প্রকল্প এলাকায় অধিগ্রহণকৃত ভূমির ৫০ বছরের লিজমূল্যকে বেজার মূলধন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরদিকে শেয়ারহোল্ডার্স অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী সিআরবিসির ৭০ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সিআরবিসি পর্যায়ক্রমে কোম্পানিতে নগদ মূলধন বিনিয়োগ করবে। এই অর্থ সিইআইজেডের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রশাসনিক ব্যয় এবং অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।

বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস (অ্যাপয়েন্টমেন্ট অব ডেভেলপার) রুলস, ২০২০-এর বিধি ১৯ অনুযায়ী এসপিসি নিবন্ধিত হওয়ার পর ওই কোম্পানিকে জোন উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য বেজার সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করতে হবে। চুক্তির শর্তানুযায়ী জোনটি উন্নয়ন ও পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০১৫) অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ও অন্য কোনো দেশের সরকারের মধ্যে অংশীদারিত্ব বা উদ্যোগে অথবা এক বা একাধিক সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতা বা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ এবং এ ধরনের অঞ্চলের জন্য ডেভেলপার নিয়োগের বিধান রয়েছে।

প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং এ বিষয়ে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিইজিএসিএইচকে নিয়োগের লক্ষ্যে সিআরবিসির সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহায়ক প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটিকে ডেভেলপার হিসেবে গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াকরণ কমিটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর