1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
শূন্যরেখায় দুই শিশুর কান্না, এক মায়ের আর্তনাদ—‘আমরা বাঁচতে চাই’ - আজকের কাগজ
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
আমি না থাকলে ইসরাইলেরও অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘১৬ বছর ধরে আমাকে বুলিং করা হচ্ছে’, ক্ষোভ ঝাড়লেন প্রভা কালিয়াকৈরে বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, যানবাহন চলাচলে ধীরগতি ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মসূচি দুঃখজনকভাবে গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি: প্রধানমন্ত্রী পর্তুগালে বেনজীরের ৫২ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পাঁচ বাড়ি! চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে চট্টগ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে কামরাঙ্গীরচরে যুবক খুন, গ্রেপ্তার ২ শূন্যরেখায় দুই শিশুর কান্না, এক মায়ের আর্তনাদ—‘আমরা বাঁচতে চাই’ নওগাঁয় দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক হাসপাতাল ছাড়লেন সেই আলোচিত শিবির নেতা জিসান

শূন্যরেখায় দুই শিশুর কান্না, এক মায়ের আর্তনাদ—‘আমরা বাঁচতে চাই’

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ ৯:২৪ পিএম
শেয়ার করুন

“আমার বাচ্চাগুলোর খুব কষ্ট হচ্ছে। ওরা অসুস্থ হয়ে গেছে। খাবার খাওয়াতে পারছি না। চিকিৎসাও করাতে পারছি না। ওদের কীভাবে বাঁচাই? আমরা বাঁচতে চাই…।”
কথাগুলো বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমি আক্তার। বুকের সঙ্গে শক্ত করে জড়িয়ে রাখেন ছয় মাস বয়সী কন্যা ফাহিমাকে। পাশে বসে থাকা চার বছরের ফাতেমা ক্ষুধা আর গরমে বারবার কেঁদে উঠছে। অথচ মা হয়ে সন্তানদের জন্য কিছুই করতে পারছেন না তিনি।
একদিকে বাংলাদেশ, অন্যদিকে ভারত। মাঝখানে কয়েক গজের শূন্যরেখা। সেই নিষ্ঠুর সীমারেখার ওপরই টানা দুই দিন ধরে আটকে আছে সুমি-বেলাল দম্পতির পরিবারসহ মোট ৯ জন মানুষ। নেই কোনো ঘর, নেই কোনো নিরাপদ আশ্রয়। মাথার ওপরে শুধু খোলা আকাশ, আর সামনে অনিশ্চয়তার অন্ধকার।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, শূন্যরেখার এক পাশে সশস্ত্র বিএসএফ, অন্য পাশে বিজিবি। মাঝখানে মানবিক বিপর্যয়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে বসে আছে কয়েকটি পরিবার।
সুমি আক্তারের কোলে ছয় মাস বয়সী ফাহিমা। গরমে শিশুটির মুখ লাল হয়ে উঠেছে। কান্না থামছে না। পাশে চার বছরের ফাতেমা মায়ের আঁচল ধরে বসে আছে। তার ছোট্ট চোখেও আতঙ্ক আর অজানা ভয়ের ছাপ।
দুই শিশুর দিকে তাকিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন সুমি।
“কোন দেশে নেবেন নেন, কিন্তু এভাবে ফেলে রাখবেন না। বাচ্চাগুলা মরে যাবে। আমরা আর পারতেছি না।”
পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা স্বামী বেলাল হোসেনের মুখে কোনো শব্দ নেই। তিনি শুধু সন্তানদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। একজন বাবার অসহায়ত্ব যেন তার নীরবতার মধ্যেই ফুটে উঠেছে।
জানা গেছে, গত রোববার ভোরে রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ৬ জন এবং ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।
এরপর থেকেই তারা দুই দেশের মাঝখানে শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।
সুমি ও বেলালের দাবি, তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায়। কয়েক মাস আগে তারা সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে বিএসএফ আটক করে তাদের সীমান্তে এনে পুশইনের চেষ্টা করে।
এদিকে সীমান্তের খোলা প্রান্তরে তীব্র রোদ যেন শিশুদের জন্য আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। কোথাও নেই কোনো ছাউনি। শিশুদের রক্ষা করতে স্থানীয় ফাহিম ও হিমেল নিজেদের পরনের লুঙ্গি খুলে অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করেন। সেই সামান্য ছায়ার নিচে একটু স্বস্তি খোঁজে ফাহিমা ও ফাতেমা।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। কেউ খাবার নিয়ে আসেন, কেউ পানি, কেউবা ছাতা। সীমান্তের মানুষের মানবিক হাত বাড়লেও প্রশাসনিক সমাধান এখনো অধরাই।
রোববার দুই দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান হয়নি।
গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, “অবস্থানকারীরা এখনো শূন্যরেখার কাছেই আছে। বিএসএফ তাদের কিছু খাবার, কম্বল ও পলিথিন দিয়েছে। স্থানীয়রাও সহযোগিতা করছে। কিন্তু বৈঠকে কোনো সুরাহা হয়নি।”
জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “ভারত তাদের পুশ করেছে। আমরা গ্রহণ করিনি। বিষয়টির গ্রহণযোগ্য সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।”
সোমবার দিন-রাত শেষে মঙ্গলবার সকাল হলো। সীমান্তে এসেছে গাড়ি, হয়েছে আলোচনা, হয়েছে দফায় দফায় যোগাযোগ। কিন্তু সমাধান আসেনি। দ্বিতীয় রাতও খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হয়েছে নারী-শিশুসহ আটকে পড়া মানুষগুলোকে।
রাষ্ট্রের সীমারেখা হয়তো মানচিত্রে আঁকা যায়, কিন্তু ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না কোনো সীমান্ত মানে না।
ছয় মাস বয়সী ফাহিমা জানে না বাংলাদেশ কী, ভারত কী। চার বছরের ফাতেমাও বোঝে না পুশইন, পুশব্যাক কিংবা কূটনীতির ভাষা। তারা শুধু জানে—তাদের ক্ষুধা লেগেছে, শরীর পুড়ছে, আর তারা মায়ের কোলে একটু নিশ্চিন্ত ঘুমাতে চায়।
রৌমারীর শূন্যরেখায় বসে থাকা এই দুই শিশুর কান্না, এক মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ আর এক বাবার নীরব অসহায়ত্ব আজ সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে মানবতার কাছেই এক নির্মম প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—
মানুষের আগে কি সীমান্ত, নাকি সীমান্তের আগে মানুষ?

এই বিভাগের আরো খবর