
দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ, রংপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণাসহ কয়েকটি এলাকায় পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত আরও ৯ জন আহত হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়। জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু হয়। এছাড়া, রংপুরে দুইজন, ময়মনসিংহে দুইজন, নেত্রকোণায় একজন এবং হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে একজন করে মারা গেছেন। জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার পৃথক হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে কৃষকরা হাওরে ধান কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হলে সঙ্গে বজ্রপাতও শুরু হয়। তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে বজ্রপাতে আবুল কালাম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
একই সময়ে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন নিহত হন। তিনি চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানান জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলী।
ধর্মপাশা উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় হাবিবুর রহমান ও রহমত উল্লাহ মারা যান। হাবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা হাওরে বজ্রপাতে লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রংপুর
রংপুরে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। শনিবার সকালে মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— মৎসজীবী মিলন মিয়া (৩৫) ও কৃষক তালেব উদ্দিন (৪৫)।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, সকালে বৃষ্টির সময় ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরছিলেন কয়েকজন জেলে। এ সময় স্থানীয় শিশুসহ ১৫-২০ জন সেখানে জড়ো হন। হঠাৎ বজ্রপাতে তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিলন মিয়া ও তালেব উদ্দিন মারা যান।
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পরই দুইজনকে মৃত পাওয়া যায়।
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গৌরীপুর উপজেলার রহমত আলী উজ্জল (৩০) এবং গফরগাঁও উপজেলার মমতাজ আলী খান (৫৮)।
স্থানীয়রা জানান, রহমত আলী উজ্জল ধানক্ষেত দেখতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে মমতাজ আলী খান নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
নেত্রকোণা
নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় হাওরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে সুখারী ইউনিয়নের মেষি হাওরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের মতে, বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জর নবীগঞ্জ উপজেলায় জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৫৫) মারা যান। ভাকৈর পূর্ব ইউনিয়নের মমিনা হাওরে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার জানায়, ছেলে নুরুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে ধান কাটার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জর করিমগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে হলুদ মিয়া (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে বড় হাওরে ধান কাটার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বজ্রপাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. এমরানুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
Leave a Reply