1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
তিস্তার গ্রাসে রামহরি, প্রশ্নে ১০০ কোটির প্রকল্প - আজকের কাগজ
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
উৎপাদন খরচের চেয়ে দুধ-মাংসের বাজারমূল্য অনেক বেশি, সংসদীয় কমিটির নজরদারি গুম প্রতিরোধে সংবিধানে নতুন কিছু যুক্ত করার প্রয়োজন নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি, কুড়িগ্রাম-উলিপুরে জামায়াত-শিবিরের বিক্ষোভ ছাগলনাইয়ায় গৃহবধূ ও দুই শিশুকন্যাকে জিম্মি করে সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায় চৌদ্দগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত যুবদল নেতার বিরুদ্ধে |: গোমস্তাপুরে ব্যবসায়ীকে নিরাপত্তা ঘটনায়, টাকা ছিনতাইয়ের শিক্ষামন্ত্রী: আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে হবে লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীর মৃত্যু: জড়িতদের ধরতে মাঠে পুলিশ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা কুমিল্লায় প্রাইভেটকার থেকে ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ২

তিস্তার গ্রাসে রামহরি, প্রশ্নে ১০০ কোটির প্রকল্প

মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬ ৯:৪৬ পিএম
শেয়ার করুন

শতকোটি টাকার নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প চলমান। কিন্তু সেই প্রকল্পের মাঝেই ভয়াল রূপ নিয়ে তিস্তা গিলে খাচ্ছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি ও চতুরা গ্রামের বসতভিটা। মাত্র এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ২৫টি বাড়ি। নতুন করে হুমকিতে রয়েছে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও গাছপালা। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—১০০ কোটি টাকার প্রকল্পের সুফল কোথায়?
শুক্রবার (২৬ জুন) ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তিস্তার পানি কমলেও স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। সেই স্রোতের তোড়ে নদীতীর রক্ষায় ফেলা জিও ব্যাগ একের পর এক ধসে নদীতে বিলীন হচ্ছে। চোখের সামনে বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা মানুষ। কেউ ঘরের টিন খুলছেন, কেউ শেষ সম্বল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।
ইতোমধ্যে ইদ্রিস আলী, শহিদুল হক ও আতাউল ইসলামের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আরও তিনটি বাড়ি সরিয়ে নেওয়া হলেও অন্তত ২০টি বাড়ি এখনো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শুধু রামহরি মৌজাতেই গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে ২৫টি বসতভিটা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিস্তার পূর্ব তীর সংরক্ষণে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০টি প্যাকেজের কাজ চললেও ঠিকাদারদের অবহেলা, ধীরগতি এবং বর্ষার মধ্যে তড়িঘড়ি করে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করায় প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত সুরক্ষা দিতে পারছে না। কোথাও কোথাও নিম্নমানের কাজের কারণেও ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
রামহরি গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা জাহেরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষা চলে এসেছে, অথচ কাজ শেষ হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারদের গাফিলতির খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। সময়মতো কাজ হলে আজ এই দুর্ভোগে পড়তে হতো না।”
ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা খলিল মিয়া বলেন, “যেভাবে নদী ভাঙছে, যেকোনো সময় আমার বাড়িটাও নদীতে চলে যাবে। পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, সেই চিন্তায় দিন কাটছে।”
ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব মজিদুল ইসলাম বলেন, দ্রুত ও সঠিকভাবে নদীতীর সংরক্ষণের কাজ সম্পন্ন করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
তবে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “নদীর পানি কমে যাওয়ায় কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ চলছে। ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা। তাদের দাবি, তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি দ্রুত টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে তিস্তার আগ্রাসনে আরও বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।

এই বিভাগের আরো খবর