
গত ৯ই আগস্ট বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুর উপরে বিআরটি বাসা ও মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে ঘটনার স্থলে প্রাণ হারান সেন্ট আলফ্রেড্স হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মো.রিফাত চাপরাশি।
রিফাত আর সিফাত দু’জন চাচাতো ভাই গত রবিবার বিদেশে যাওয়া জন্য বরিশাল শহরে একটি কফি শপের ট্রেনিং নিতে বাকেরগঞ্জ বিহারীপুর চাপরাশি নিজ বাড়ি থেকে দুপুর ১টায় রওনা দেয়। বিকাল ৪টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়(ববি) সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুর উপর রিফাত-সিফাত কে বহনকারী মাহিন্দ্রা গাড়িটি এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনার স্থলে রিফাত প্রাণ হারালেও মো. সিফাতের বর্তমান অবস্থা সংকটাপন্ন। বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে থেকে ১১ আগস্ট সিফাত কে ডাক্তাররা ঢাকা রেফার করছে বলে জানিয়েছে সিফাতের বাবা মো. কামাল।
কপি শপের ট্রেনিং এর বাকি ছিল তিন, পরিবারের এক মাত্র সন্তান রিফাত এর স্বপ্ন ছিলো বিদেশে পাড়ি জমানোর। রিফাতের বাবা মো.জামাল চাপরাশি একজন সৌদি প্রবাসী,বাবার কাছে যাওয়ার কথা ছিল রিফাতের। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে টিকিট কেটে রওনা দেন তিনি।
রিফাতের বাবা মো.জামাল চাপরাশি বলেন,” ছেলে মৃত্যুর খবর শুনে আমি দেশে চলে আসি। এখনো পর্যন্ত রোড’স অ্যান্ড হাইওয়ে আমাদের সাথে এবিষয় কোনো যোগাযোগ করেনি। রিফাতের মা (রুবি বেগম) ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বেহুঁশ হয়ে গেছে। তার বর্তমানে কথা বলার পরিস্থিতি নাই। রিফাত কে গ্রামের সবাই ভালো বলতো। সবাই বলতো রিফাত-সিফাতের মতো ছেলে হয় না। রিফাত তার মাকে ঘরোয়া কাজেও হেল্প করতো।”
রিফাতের মামা মো.মহসিন খান বলেন,”
সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এখন পর্যন্ত। আমি এবং তার পরিবারের সহায়তায় কামনা করছি। আর সিফাতের এখন উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, আশা করি সরকার সিফাতে পাশে দাঁড়াবে। প্রবাসীরা দেশের জন্য কত কষ্ট করে কিন্তু জামাল ভাই তার ছেলের জন্য সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। একজন প্রবাসীর শেষ সম্বল ছিলো তার ছেলে রিফাত তাও হারিয়ে আজ নিঃস্ব।”
উল্লেখ্য, রবিবার ৯ই আগস্ট বিকেল বরিশাল দপদপিয়া সেতুতে বিআরটিসি বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনার স্থলে একজন নিহত হন ও ৪চার জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত ৯ই আগস্ট রাত ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে মৃত্যুবরণ করেন।