
দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সিরাজগঞ্জ ও খুলনায় বন্ধ থাকা তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এসব তথ্য দেন।
উপ প্রেস সচিব বলেন, বন্ধ থাকা তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল দ্রুত চালু করতে দুই বেসরকারি উদ্যোক্তার কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
“অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, ‘সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে’।“
বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত এ তিন কারখানা হচ্ছে- সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড, খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড ও প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড।
চুক্তি অনুযায়ী জাতীয় জুট মিলস ও স্টার জুট মিলস ইজারা পাচ্ছে প্রাণ আরএফএল গ্রপ এবং প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস পাচ্ছে হ্যামকো গ্রুপ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছে।
বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা গেলে মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবনের নিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেছেন, এতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
‘‘দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য। রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতি সহায়তা দেবে।
‘‘জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়। সাধারণ মানুষকে অভাবের মধ্যে রেখে কিংবা তাদের মুখ বন্ধ করে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।”
সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘‘আমরা এমন একটা দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে সবাই এখন যে অবস্থায় আছে, তার থেকে ভালো থাকবে। সরকারের নীতির মূল উদ্দেশ্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করা।
‘‘সবার সহযোগিতা নিয়ে একটি সুন্দর ও শক্তিশালী দেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করছে।”
উপ প্রেস সচিব শিপলু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশে বিদেশি বিনিয়োগ অবশ্যই আসবে এবং সরকার সেটি চায়’।”
তারেক রহমান বলেন, “তবে দেশের নিজস্ব বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করতে হবে। তাদের ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু নীতি সহায়তা দরকার তা দেওয়া হবে।”
তিনটি পাটকল ইজারা নেওয়া দুই ব্যবসায়ী গ্রুপকে ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘নতুন বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠানগুলো সফল হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।”
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং হ্যামকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা বক্তব্য রাখেন।