1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
ঢাকার সেরা দশে নেই ভিকারুননিসা-আইডিয়াল-মাইলস্টোন, হতাশ অভিভাবকরা - আজকের কাগজ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার সেরা দশে নেই ভিকারুননিসা-আইডিয়াল-মাইলস্টোন, হতাশ অভিভাবকরা প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ ভারতের সরকারি ওষুধ পোড়ানোর ঘটনায় কুড়িগ্রামে তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগ কোটি টাকার অবৈধ সিগারেটের আস্তানায় র‍্যাব’র অভিযান নববধূর স্বামীর কাছে মাদক পাঠিয়ে পুলিশকে খবর দিলো সাবেক প্রেমিক ‘গুলি করি, মরে একটা’ ভাইরাল সেই পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পদ্ধতি জানালেন ইসি সচিব শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত সিরিয়ায় ঐতিহাসিক রায়ে বাশার আল আসাদকে মৃত্যুদণ্ড

ঢাকার সেরা দশে নেই ভিকারুননিসা-আইডিয়াল-মাইলস্টোন, হতাশ অভিভাবকরা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬ ৯:০০ পিএম
শেয়ার করুন

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এবার পিছিয়ে পড়েছে রাজধানীর নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। পাস ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারে শীর্ষ ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় জায়গা মেলেনি স্বনামধন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাইলস্টোনের মতো প্রতিষ্ঠান শীর্ষ দশ জায়গা পায়নি। গত কয়েক বছর ধরে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী ফলাফল করছে। এ নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

শীর্ষ দশে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এবার সবচেয়ে ভালো ফল করেছে মিশনারি পরিচালিত সেন্ট জোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শতভাগ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৪ দশমিক ২১ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

সেন্ট জোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর ১৭১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪৪ জন। এছাড়া জিপিএ-৪.৫০ থেকে ৪.৯৯-এর মধ্যে ফল পেয়েছে ১৯ জন। জিপিএ-৪ থেকে ৪.৪৯ পেয়েছে ৭ জন। মাত্র একজন জিপিএ-৩.৫০ থেকে ৩.৯৯-এর মধ্যে ফল করেছে।

ফলাফলে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হলি ক্রস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।তৃতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজেও পাসের হার শতভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৯ দশমিক ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী। চতুর্থ অবস্থানে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। এ প্রতিষ্ঠাটিতেও শতভাগ পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।

পঞ্চম অবস্থানে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল। এ স্কুলে গড় পাসের হার শতভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে অংশগ্রহণ করা মোট শিক্ষার্থীর ৭৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজেও পাসের হার শতভাগ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৬৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।ভিকারুননিসা টয়লেটের টিস্যু, বিদ্যুৎ বিল, এসির খরচের টাকাও অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করে। তাহলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে শেখানো হচ্ছে না কেন? তারা কী দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে? স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েও আমার মেয়েটা আজ হতাশ।— এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এক ছাত্রীর মা

সপ্তম অবস্থানে শহীদ বীর উত্তম লেফটেন্যান্ট আনোয়ার গার্লস কলেজ। প্রতিষ্ঠানটিতে পাসের হার শতভাগ এবং ৬৭ দশমিক ২০ শতাংশ পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। অষ্টম অবস্থানে কুর্মিটোলার বিএএফ শাহীন কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ পাস করেছে এবং ৬১ দশমিক ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থী এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে।

নবম অবস্থানে নির্ঝর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ স্কুলে এসএসসিতে পাসের হার শতভাগ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দশম অবস্থানে ঢাকা রেসিডনসিয়াল মডেল কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

ফলাফলে পিছিয়ে যেসব নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার ফলাফলে ঢাকার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় ১৯ নম্বরে নেমে গেছে ঐতিহ্যবাহী মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়। ১৮ নম্বর অবস্থানে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ১৭ নম্বরে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এছাড়া ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজও শীর্ষ দশে স্থান করে নিতে পারেনি।শীর্ষ দশে জায়গা না পাওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাইলস্টোন কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মুহাম্মদ পাবলিক কলেজও।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবার পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৩ জন ছাত্রী ফেল করেছে। কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারও। এবার ভিকারুননিসা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৯৮ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৫৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৯২ দশমিক ২৩ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩১ দশমিক ৯২ শতাংশ পরীক্ষার্থী। মাইলস্টোন কলেজে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪১ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী। ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজেপাসের হার ৯৯ শতাংশ হলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার কম। মাত্র ৪৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

হতাশা-ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকরা
ভর্তি করাতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। বেতন ও ফিস বেশি। অন্যান্য খরচও বেশি। বাড়তি খরচ করে রাজধানীর নামি প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে পাঠিয়ে আশানুরূপ ফল করতে না পারায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

শতভাগ পাস করাতে পারিনি, এটা সত্য। ‍এবার কারিকুলাম নিয়ে ঝামেলা ছিল; প্রশ্নপত্র ও খাতা মূল্যায়নের ধরন ভিন্ন ছিল। সেগুলো আমি বলতেও চাচ্ছি না। কিন্তু এগুলো বাস্তবতা। আগামীতে শতভাগ পাস ও জিপিএ-৫ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেবো আমরা।— ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম

ভিকারুননিসা থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এক ছাত্রীর মা বলেন, ‘আমার মেয়ে ক্লাস টু থেকে ভিকারুননিসায় পড়ছে। প্রতিবার ক্লাসে ভালো ফল করে। কিন্তু এবার এসএসসিতে যে ফল করেছে, তা আমাদের প্রত্যাশার অনেক নিচে। মেয়ের ওপর রাগ করার কারণও দেখছি না। স্কুলের শিক্ষকরা সারাক্ষণ তাদের কাছে প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করেন। তাদের কাছে পড়িয়েছি। অথচ ফল খারাপ হলো।’

তিনি বলেন, ‘ভিকারুননিসা টয়লেটের টিস্যু, বিদ্যুৎ বিল, এসির খরচের টাকাও অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করে। তাহলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে শেখানো হচ্ছে না কেন? তারা কী দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে? স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েও আমার মেয়েটা আজ হতাশ। নিজেই বলছে শিক্ষকরা যেভাবে পড়িয়েছেন, সেভাবে ও নিজে খুব পরিশ্রম করেছে। কিন্তু গলদটা কোথায়, তা বুঝতে পারছি না।’

বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে ফেল করা এক ছাত্রের বাবা বলেন, ‘শাহীন কলেজে পড়িয়েছি, ছেলেটা যে এভাবে ইংরেজিতে ফেল করবে- তা ভাবতেও পারিনি। শিক্ষকদের অবহেলা ও গাফলতি আছে। এমনিই এখন ওরা (ছাত্র) পড়তে চায় না, সেখানে শিক্ষকরাও ঢিল দিলে পাস করবে কীভাবে?’মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে এবার এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করেছে এক ছাত্রী। তার বাবা বলেন, ‘মেয়েকে সারাক্ষণ স্কুলের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়তে যেতে দেখতাম। ভাবছিলাম ভালো ফল করবে। এখন দেখি দুই বিষয়ে ফেল। মনিপুর স্কুলে শুনছি শুধুই দুর্নীতি-অনিয়ম চলে। শিক্ষকরা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত থাকে বেশি। এখানে মেয়েটাকে না পড়িয়ে অন্য স্কুলে দিলে পাস করতো।’

পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো যা বলছে
ফলাফলে পিছিয়ে পড়লেও দায় নিতে রাজি নন রাজধানীর নামি প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকরা। তাদের দাবি, এবার সারাদেশের গড় ফল খারাপ হওয়ার ধাক্কা তাদের প্রতিষ্ঠানেও লেগেছে। পাশাপাশি এবার যারা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, তারা নবম শ্রেণিতে এক কারিকুলাম ও দশমে ভিন্ন কারিকুলাম পড়েছে। এতে প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল বলেও জানিয়েছেন তারা।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, ‌‘দুঃখজনকভাবে আমাদের কয়েকজন ছাত্রী ফেল করেছে। শতভাগ পাস করাতে পারিনি, এটা সত্য। ‍শুধু ভিকারুননিসায় নয়, অন্যদের ক্ষেত্রেও ফলাফল এবার কিছুটা খারাপ হয়েছে। এবার কারিকুলাম নিয়ে ঝামেলা ছিল; প্রশ্নপত্র ও খাতা মূল্যায়নের ধরন ভিন্ন ছিল। সেগুলো আমি বলতেও চাচ্ছি না। কিন্তু এগুলো বাস্তবতা। আগামীতে শতভাগ পাস ও জিপিএ-৫ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেবো আমরা।’

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ বলেন, ‘সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাকে এখানে দায়িত্ব দিয়েছে। তার আগে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। এ বছর সারাদেশে ফল কিছুটা খারাপ হয়েছে। তারপরও আমরা আগামীতে শতভাগ পাস ও আরও বেশি জিপিএ-৫ পেতে শিক্ষাকার্যক্রম গতিশীল করার উদ্যোগ নেবো। আশা করি, আগামীতে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল আরও ভালো হবে।’

ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পড়ায়
হলি ক্রস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট জোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবার ভালো ফল করেছে। বিগত বছরগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

হলি ক্রস, সেন্ট জোসেফ পারলে ভিকারুননিসা কেন পারছে না; মতিঝিল আইডিয়ালও পারছে না কেন- তা খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি গণহারে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তিও ঠেকাতে হবে। অভিভাবকদের কথিত নামি স্কুলের দিকে ঝোঁক কমিয়ে সন্তানকে শেখানোর দিকে নজর দিতে হবে।— ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ

কীভাবে ধারাবাহিক ভালো ফল করা সম্ভব হয়েছে জানতে চাইলে হলি ক্রস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার কল্পনা কস্তা বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের যত্নসহকারে পড়িয়ে থাকেন। ক্লাসের পড়া ক্লাসেই করানোর চেষ্টা করা হয়। যে হোম ওয়ার্কগুলো দেওয়া হয়, সেটাও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছাত্রীদের এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিতে সবসময় উৎসাহিত করা হয়।’

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষক সাঈদ হোসেন রাজু বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ক্লাসে মনোযোগী করতে রাজউকের শিক্ষকরা চেষ্টা করেন। ক্লাসে পড়ানো, বাসায় পড়ার টেবিলে বসাতে অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় করায় আমরা ভালো ফল করেছি বলে মনে করি।’

শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা বোর্ডের প্রতিক্রিয়া
নামি স্কুলগুলোর ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারাও। বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান এবার তুলনামূলক খারাপ করেছে, তাদের বিষয়ে তো আমরা ভালো ধারণা পোষণ করতাম। সেখানেও কেন ফেল বাড়ছে, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে খতিয়ে দেখতে হবে।

’তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা করতে পারি তা হলো- নিয়মিত তাদের শিক্ষাকার্যক্রম ও ক্লাস-পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রমগুলো পর্যবেক্ষণ করে নির্দেশনা ও পরামর্শ দিতে পারি। সেটা করা হয়, আগামীতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।’

বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পিছিয়ে পড়া খারাপ বার্তা দেয় বলে মনে করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ।

তিনি বলেন, ‘আপনি যাদের নাম বললেন, সেগুলোকে আমি নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং বড় প্রতিষ্ঠান বলতে আগ্রহী। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অভিভাবকদের ভরসা বেশি। তারা যখন খারাপ করে সেটা শিক্ষাব্যবস্থায় খারাপ বার্তা দেয়।’

ড. মনজুর আহমদ বলেন, ‘আমি মনে করি, বড় ও ছোট নয়, সব প্রতিষ্ঠানে সরকারের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সেখানে নজরদারি বাড়ানো, ক্লাস ও শিক্ষাকার্যক্রমের পরিস্থিতি ও মান তত্ত্বাবধান করা জরুরি। হলি ক্রস, সেন্ট জোসেফ পারলে ভিকারুননিসা কেন পারছে না; মতিঝিল আইডিয়ালও পারছে না কেন- তা খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি গণহারে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তিও ঠেকাতে হবে। অভিভাবকদের কথিত নামি স্কুলের দিকে ঝোঁক কমিয়ে সন্তানকে শেখানোর দিকে নজর দিতে হবে।’

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের চেয়ে এবার পাসের হার কমেছে। গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১ বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

এ বছর পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ কমেছে।

এই বিভাগের আরো খবর