
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, ফ্যাসিস্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিচার নিশ্চিতের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জকসু) গঠনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী ছাত্রদল, জবি শাখা।
আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে মানববন্ধনে এ দাবি জানান। মানববন্ধনে তারা ৩ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
দাবি তিনটি হলো:
১. মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস মোতাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য ৭০% আবাসন ভাতা প্রদান বাস্তবায়ন করা।
2. ফ্যাসিস্ট ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও আওয়ামী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনা।
3. দ্রুত জকসুর নীতিমালা প্রনয়নসহ সকল কর্যক্রম শেষ করা।
এসময় তারা বলেন, ‘কতগুলো ছাত্র সংগঠন আমাদের মতো আন্দোলন করছে। কিন্তু তারা উপাচার্য ও প্রশাসনের লোকদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। আন্দোলনের গনতান্ত্রিক রূপ আছে,আমরা তাদেরকে বলবো গনতান্ত্রিক উপায়ে প্রশাসনকে চাপ দিয়ে দাবি আদায় করতে। তারা আরও বলেন, কিছু আন্দোলনকারী শুধু জকসুকে টার্গেট করে আন্দোলন করছে। আবাসন ভাতা নিয়ে তারা কিন্তু সত্যিকার অর্থে কাজ করছে না।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “আমরা জকসু নির্বাচনের বিপক্ষে নই। কিন্তু যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে গনহত্যাকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো আছে, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জকসুর নির্বাচনে ভোটার হবে ছাত্রলীগের হামলাকারীরা সেই নির্বাচন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে হতে পারেনা। তাই আগে ফ্যাসিস্ট ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও আওয়ামী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে তাপর জকসু নির্বাচন। আমরা বলতে চাই, আমাদের মধ্যবিত্ত যে শিক্ষার্থী খেতে পায়না, ঠিকভাবে তার খরচ চালাতে কষ্ট হয় আগে তাদের আবাসন ভাতা নিশ্চিত হোক।”
এটাও তিনি বলেন, “আমরা চাই জকসু প্রয়োজনে পরশুদিন আয়োজিত হোক। তবে তার আগে আগামীকাল ছাত্রলীগের বিচার নিশ্চিত করা হোক। শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা ও ছাত্রলীগের বিচারের মাধ্যমে জকসু নির্বাচনের জন্য আগামীতে আমরা আর কঠোর কর্মসূচি দিব।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি অংশ চায়না শিক্ষার্থীরা আবাসন ভাতা পাক। কারণ যদি আবাসন ভাতা শিক্ষার্থীরা পায় তাহলে ছাত্রদল যে যমুনাতে আন্দোলন করেছে সেটি নাকি সফল হয়ে যাবে। আমরা তাদের হুশিয়ার করে বলতে চাই, ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতার দাবিতে যে সময় বেঁধে দিয়েছে তার মধ্যে যদি কার্যকর করা না হয় তাহলে আমরাও তালা দিবো। আমাদের যদি তালা দিতে হয় তাহলে আপনাদের ভবন থেকে বের করে তালা দিব, যাতে মন্ত্রণালয়ে ঘুরে আপনারা দাবি মানিয়ে আনতে পারেন। আমরা জকসু দেওয়ার জন্য বিরোধিতা করছি না৷ কিন্তু তার আগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো গণহত্যাকারী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচরণ করতে পারবে না।”