1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
বদলগাছীতে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকি! - আজকের কাগজ
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ডলারের নতুন দর নির্ধারণ করলো মানি চেঞ্জার এসোসিয়েশন কালিয়াকৈর হাইটেক সিটি থেকে চোরাই মালামালসহ ৬ জন আটক ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা পাচ্ছে এপিবিএন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি, গ্রেপ্তার ১ বাবার লাশ বারান্দায়, কবরের জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষ ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জ্বলছে রুশ দ্বিতীয় বৃহৎ ই-কমার্সের ৬ ডিপো হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চউকের অভিযান অব্যাহত, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা ভোলাহাটে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার! টেকনাফে বিদেশি এসএমজি উদ্ধার, ৩২৭ রাউন্ড গুলিসহ নারী আটক চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় মহাসড়কে অবৈধভাবে নির্মাণ সামগ্রী রাখায় চসিক’র অভিযান

বদলগাছীতে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকি!

বদলগাছী( নওগাঁ )প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ মে, ২০২৫ ১১:৫৫ এএম
শেয়ার করুন
নওগাঁর বদলগাছীতে কালের বিবর্তনে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় যান্ত্রিক যুগে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ঢেঁকি ।
গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ঢেঁকি।বহু বছর আগে থেকেই ঢেঁকির ব্যবহার হয়ে আসছে। ঢেঁকির উৎপত্তি কবে এবং কীভাবে হয়েছে তা সঠিকভাবে জানা যাইনি। তবে বহু পুরোনো সময় ধরে ঢেঁকির ব্যবহার। শস্য, ফসল ভাঙানোর কাজে ঢেঁকির ব্যবহার হতো। ধান ভাঙিয়ে চাল বের করা, গম ও ভুট্টা থেকে আটা, ছাতু তৈরি করা, ডাল গুঁড়া করা, মরিচ গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া এ ধরনের শুকনো নানা জিনিস গুঁড়া করার কাজে কাঠের তৈরি এই ঢেঁকি ছিল একমাত্র উপকরণ।
একটা সময় বদলগাছী উপজেলার  সদর ইউপি,বালুভরা ,আধাইপুর ,মথুরাপুর ,পাহাড়পুর ,মিঠাপুর,কোলা সহ বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই প্রায় বাড়িতে ঢেঁকি দেখা যেত। গুদাম ঘরে, বা রান্না ঘরে বসানো হতো ঢেঁকি। গ্রামের মহিলারা ঢেঁকিতে শস্য ভাঙাতেন। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একজন বা দুইজন মিলেও পা দিয়ে জোরে জোরে উঠানামা করাতেন ঢেঁকি।
আর মুখে মুখে সুরের গান গাইতেন’ ধান ভানিরে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া,ঢেঁকি নাচে, আমি নাচি, হেলিয়া দুলিয়া, ও ধান ভানিরে। গানের তালে তালে আনন্দে ঢেঁকিতে  কাজ করত।
 ঢেঁকির আকৃতি ছিল সাড়ে ৫ থেকে ৬ ফুটের মতো লম্বা। পাশ থাকে ৮ থেকে ৯ ইঞ্চির মতো। গাছের মোটা অংশ দিয়ে ঢেঁকির মূল কাঠামো তৈরি করা হতো। মেঝে থেকে কিছুটা উঁচুতে বসানো হতো। সামনের দিকে একটি কাঠ থাকত যেটা মেঝের গভীর পর্যন্ত ছিল, যার মাধ্যমে শস্য ছিন্ন হতো যাকে বলা হতো মৌনা। পেছনের দিকে খিল আটকানো হতো, আর ঠিক তার থেকে একটু পেছনেই পা দিয়ে চাপ দেওয়া হতো। ঢেঁকির গঠন ঠিক এমনই ছিল।
হেমন্ত এলেই নতুন ধানের নতুন চালের গুঁড়া করার হিড়িক পড়ে যেত। চালের গুঁড়া দিয়ে নানা পিঠাপুলি তৈরি করতেন। এসব যেন বর্তমানে দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের বাড়িতে এখন আর আগের মতো ঢেঁকি দেখা যায় না। কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বাংলার ঐতিহ্য চিরচেনা ঢেঁকি। নতুন করে আবিষ্কার হয়েছে মেশিন। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে রাইস মিল, ড্রয়ারসহ নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। আগে মানুষ ধান কেটে বোঝা বানিয়ে মাথায় করে বাড়ির উঠানে নিয়ে আসত। তারপর হাত দিয়ে পিটিয়ে ধানের শীষ থেকে আলাদা করত, সিদ্ধ করে রোদে পুড়ে শুকাতে হতো, তারপর ঢেঁকিতে ভেঙে চাল বানাত।
যুগের পরিবর্তনে এসব কৃষকের নানা মধুময় দৃশ্যগুলো অতীত হয়ে গেছে। দেখা যায় না আর এসব গ্রামের প্রকৃতি। ধান ভাঙার দৃশ্য, ঢেঁকি এসব যেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে। এখন বিলুপ্তির পথে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য চিরচেনা ঢেঁকি।
এই বিভাগের আরো খবর