
বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকায় জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন মামার হাতে ভাগ্নে কামরুল রাঢ়ী (৫০) গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুরানপাড়া এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মামা আনোয়ার হোসেন, মামী খাদিজা বেগম এবং মামাতো ভাই মিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কামরুল রাঢ়ীর সাথে তার মামা আনোয়ার হাওলাদারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে অতীতেও একাধিকবার উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও সংঘাত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুরানপাড়ার ছোট বটতলা এলাকায় কামরুল নিজ জমিতে কাজ করার সময় আনোয়ার হাওলাদার, তার দুই ছেলে সুরুজ ও মিরাজ এবং স্ত্রী খাদিজাসহ ৫-৭ জন ব্যক্তি তাকে কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে বাগবিতণ্ডার সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কামরুলকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
কামরুলের আর্তচিৎকারে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় ভাই মনিরুজ্জামান জানান, দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই আনোয়ার হাওলাদার ও তার পরিবারের লোকজন মিলে কামরুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পরপরই তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।