
নির্বাচন করে বিএনপি জয়লাভ করলে আওয়ামী লীগের কোনো আপত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে ছাত্রলীগের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র অনেক করেছেন, ষড়যন্ত্র আর কইরেন না। যদি এতই মনে হয়, বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের গাছে উঠিয়ে সরকার বানিয়ে দিবে। আসেন, নির্বাচন করেন। আপনাদের চ্যালেঞ্জ দিলাম। নির্বাচনে জয়লাভ করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমি জানি বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের (বিএনপি) ভোট দিবে না। বাংলাদেশের মানুষ সবসময় সঠিকভাবে ভোট দিতে শিখেছে।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আমরা ভুলি নাই। জিয়াউর রহমানের সময় হ্যাঁ/ না ভোটের সময় কী করেছেন ভুলি নাই। জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় কী করেছেন ভুলি নাই। ২০০১ সালে কী ষড়যন্ত্র করছেন ভুলি না। ২০১৪ সালে অগ্নি-সন্ত্রাস করেছেন এবং ২০১৮ সালে নির্বাচন বাণিজ্য করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ সব জানে। তাদেরকে এত বোকা ভাববেন না। সেজন্যই আপনাদের আন্দোলনের সঙ্গে জনগণ সম্পৃক্ত হয় না।’
বিএনপি ক্ষমতায় আসা পর জনগণকে কী উপহার দিয়েছে সে বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির উপহার ১৯৭৫ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। এরকম কালো আইন সারাবিশ্বে কোথাও নেই। উপহার দিলেন ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের জেলহত্যা। উপহার হিসেবে তারা সামরিক বাহিনীর সাড়ে চার হাজার অফিসারকে হত্যা করলেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দূতাবাসের চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করলেন। ১৯ বার বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে হত্যাচেষ্টাসহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করলেন। তাছাড়া ১৭ আগস্ট করলেন সিরিজ বোমা হামলা। তাদের আইনের প্রতি বিন্দুমাত্র ছিটেফোঁটাও ছিল না।
তিনি আরও বলেন, এই দলটি বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিল, ‘বাংলাদেশ একটা তলাবিহীন ঝুড়ি।’ এই দলটি চেয়েছিল বাংলাদেশ যেন সারাজীবন তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে যায়। তাদের অর্থমন্ত্রীর বলেছিল, ‘গ্যাস মাটির তলার রাইখ্যা কী করা যাবে, বিক্রিই করে দিতে হবে।’ বাংলাদেশকে দেউলিয়া করার পরিকল্পনা ছিল। ওনারা বাংলাদেশের ভালো চান না।
আলোচনা সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply