
চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর (৩৫) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
তিনি শুক্রবার (০৮ মে) সন্ধ্যার পর নগরীর পানপট্রি এলাকার ওই কর্মকর্তার ভাড়া ফ্ল্যাটে যান এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লায় কাস্টম কর্মকর্তা নিহতের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমি এ বিষয়ে সংসদে কথা বলেছি এবং প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেছি। ২৪ ঘণ্টার ভিতরে র্যাব অভিযুক্তদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে। সেজন্য র্যাব কর্মকর্তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।
তিনি আরও বলেন, আজকে আমি বুলেট বৈরাগীর বাসায় দেখা করেছি। তার স্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেছে। প্রধানমন্ত্রী মানবিক মানুষ, আশা করি সাড়া দেবেন। ইতিমধ্যে সরকার থেকে নির্দেশ এসেছে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বুলেট বৈরাগীর বেতন যেন তার স্ত্রীকে প্রদান করা হয়।বুলেট বৈরাগীর পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে কুমিল্লায় তার পরিবারের স্থায়ী নিবাসের আশ্বাস দেন মনিরুল হক চৌধুরী এমপি। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য বুলেট বৈরাগীর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।নিরাপত্তার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে মনিরুল হক চৌধুরী তাদের কুমিল্লার বাসাতেই অবস্থান করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, কুমিল্লার মাটিতে আপনাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে না। যেকোনো প্রয়োজনে এবং সার্বিক সহযোগিতায় তিনি ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিকভাবে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মনিরুল হক চৌধুরীর পরিদর্শনের সময় স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং পরিবারের আত্মীয়-স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিচার এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ২৫ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনিং শেষ করে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫)৷ পথিমধ্যে পরিবারের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথা হয়। সর্বশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি ফোন করে জানান, তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা কল দিলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান।
সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো হদিস না পেয়ে পরদিন শনিবার সকালে বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি আইরিশ হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।