1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশের কী কী লাভ হবে? - আজকের কাগজ
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশের কী কী লাভ হবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ৮:৪৬ পিএম
শেয়ার করুন

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকাকে এ আমন্ত্রণ জানিয়েছে সৌদি আরব।

গত ৭ আগস্ট চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরই এতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার একটা গুঞ্জন চলছিল। এরমধ্যে গত সোমবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির প্রথমবারের মতো স্পষ্ট করেন, মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ঢাকা।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যদি ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তি হয় তাহলে এতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক কিছু নয়।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এছাড়া কোন কোন শর্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এতে যোগ দিতে পারে সেটিও অস্পষ্ট।

এমন সময় বিষয়টি সামনে এসেছে যখন, কোনো প্রতিরক্ষা জোটে যোগ না দেওয়া এবং বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রাখার একটি নীতি দীর্ঘদিন ধরে মেনে চলছে বাংলাদেশ।

এ জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের কী কী লাভ হবে?

তিন দেশের এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশ তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বিস্তৃত অ্যাক্সেস পাবে। এরসঙ্গে পাবে পাকিস্তানের সেনাপ্রশিক্ষণ এবং সৌদির অর্থায়ন।

এরসঙ্গে এই চুক্তিতে যুক্ত হলে মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান গভীর হবে এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। এসব দেশে লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী থাকেন এবং তারা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন।

অসুবিধা কী কী?

তবে মক্কা চুক্তির তিন দেশের সঙ্গে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলে অসুবিধাও হতে পারে। এই চুক্তিতে যুক্ত হলে বাংলাদেশকে এমন যুদ্ধে জড়াতে হতে পারে, যে যুদ্ধে বাংলাদেশের ভূখণ্ড সরাসরি কোনো হুমকিতে থাকবে না। এছাড়া বাংলাদেশকে ইরান, ইসরায়েল, উপসাগরীয় আরব দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বন্দ্ব বা যুদ্ধগুলোতে একটি পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। যা বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে আলাদাভাবে ম্যানেজ করে আসছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশকে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেছেন এ চুক্তির ক্ষেত্রে কিছু উদ্বেগের বিষয় আছে। যারমধ্যে অন্যতম হলো— “কোনো সামরিক জোটে যোগ না দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে পুরোনো নীতি আছে সেটি এর বিরুদ্ধে যাবে। দ্বিতীয়ত ভৌগলিক বিষয়টি আরেকটি বিবেচনার বিষয় এবং সর্বশেষ আমাদের মিত্ররা এ নিয়ে কি প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।”

বর্তমানে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি কৌশলগত প্রতিশ্রুতি। এটি ন্যাটোর মতো একীভূত কোনো সামরিক জোট নয়। এছাড়া এটির সদস্য দেশগুলো ন্যাটো স্টাইলের কোনো কমান্ড ও স্থায়ী সদরদপ্তর স্থাপনের ঘোষণাও দেয়নি।

এরসঙ্গে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা বাজেট কেমন হবে এবং সদস্য দেশগুলোর কেউ সশস্ত্র হামলার শিকার হলে অন্য সদস্যদের কতটা সহায়তা করতে হবে সেটিও স্পষ্ট নয়।

ভারত বেশ চিন্তিত

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারত বেশ চিন্তিত। কারণ তাদের চিরশত্রু পাকিস্তান এরমাধ্যমে তুরস্কের আরও সামরিক সহায়তা এবং সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা পাবে। এরসঙ্গে তুরস্ক-সৌদি থেকে আগের চেয়ে বেশি কূটনৈতিক সহায়তাও পাবে তারা।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশ এটির সদস্য হলে (ভারতের জন্য) এর আলাদা গুরুত্ব থাকবে। কারণ এরমাধ্যমে চুক্তির রাজনৈতিক যে প্রভাব আছে সেটি ভারতের পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। আর ভারত এটি ইতিবাচক হিসেবে সম্ভবত দেখবে না— যোগ করেন হুমায়ুন।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ হয়ত ভারতের কাছে তার অবস্থান জানাতে পারবে। কিন্তু ভারত তবুও এটিকে ভালো চোখে দেখবে না।

ভারতীয় বিশেষজ্ঞ যা বললেন

ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শ্রীরাধা দত্ত জানিয়েছেন, বাংলাদেশ যদি এ চুক্তিতে যোগ দেয় তাহলে ভারতের সঙ্গে বর্তমান যে সম্পর্ক আছে তা আরও জটিল হয়ে যেতে পারে তিনি বলেছেন, “ভারত এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখবে না। চুক্তিতে যোগ দিলে ভারত ধরে নেবে বাংলাদেশ তাদের নিরাপত্তার সংবেদনশীলতার বিষয়টিকে বিবেচনায় নিচ্ছে না।”

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

এই বিভাগের আরো খবর