1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
মেরিনড্রাইভে ২৫০ অবৈধ রিসোর্ট: অভিযানে নামছে কক্সবাজার প্রশাসন - আজকের কাগজ
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি টিআইবির আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি হাসনাত আবদুল্লাহর সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির চৌদ্দগ্রামে চড়-থাপ্পড়ের ঘটনার পর অসুস্থ, হাসপাতালে বাইক রাইডারের মৃত্যু সিংগাইরে অভিনব কায়দায় জুয়েলারীর ৩৯ ভরি রুপা চুরি, নারীসহ ৩ জন আটক আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে ফেরার সুযোগ পাবেন প্রবাসীরা চাল ডাল আটার দাম বাড়তি, চাপে ভোক্তারা হিলিতে মাদকবিরোধী ও ওয়ারেন্ট অভিযানে গ্রেপ্তার ৩ কুবিতে নির্মিত হচ্ছে নান্দনিক অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট, তুলে ধরবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র পরিচয় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে প্রবীণ বাবার করুণ মৃত্যু

মেরিনড্রাইভে ২৫০ অবৈধ রিসোর্ট: অভিযানে নামছে কক্সবাজার প্রশাসন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:২৩ পিএম
শেয়ার করুন

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত মেরিনড্রাইভ সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টসহ পর্যটকনির্ভর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ২৫০টি রিসোর্ট নির্মাণে কোনো ধরনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ২০১৬ সালে কউক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেরিনড্রাইভ এলাকায় তারকামানের মাত্র ২০ থেকে ২৫টি স্থাপনার নকশা অনুমোদন পেয়েছে। অথচ নিয়ম না মেনেই গত পাঁচ বছরে গড়ে উঠেছে এই বিপুলসংখ্যক বাণিজ্যিক অবকাঠামো। এর নকশার ক্ষেত্রে কউকের অনুমোদন ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির ৫০০ মিটারের মধ্যে সৈকতের বালিয়াড়িতে ‘সাদাবালি’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি রিসোর্ট চালাচ্ছে। সরেজমিনে গেলে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মী বলেন, স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী রিসোর্টটি বানিয়েছেন। তারাও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।

গত ১৭ অক্টোবর এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তে জানা যায়, ওই রিসোর্টটি ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া অন্য কোনো দাপ্তরিক অনুমোদন বা নকশা ছাড়পত্র পায়নি। এর আগে গত জুন মাসে ফায়ার সার্ভিস সতর্কবার্তা দিলেও মালিকপক্ষ তা আমলে নেয়নি। উখিয়ার মেরিনড্রাইভের ১০ কিলোমিটার এলাকায় এমন ২৪টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে, যার মধ্যে অন্তত ১৪টি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইকো-ফ্রেন্ডলি বা পরিবেশবান্ধব দাবি করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। গত ১৭ অক্টোবর (শনিবার) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের প্রাণহানির পর জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি শুধু ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। টুপটুপ রিসোর্টের দুই প্রান্তে মেরিনড্রাইভের উখিয়া অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় পর্যটকদের বাণিজ্যিক সেবা দেওয়া ২৪টি প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে। উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতিষ্ঠানটি উচ্ছেদে অভিযান চালালেও কোনো অজ্ঞাত কারণে এটি অনুমোদন ও ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই এখনো ব্যবসা চালাচ্ছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, বেলাভূমি রিসোর্ট, দ্য ওয়েভ রিসোর্টস, ইনানী রয়্যাল রিসোর্ট, ডেরা রিসোর্ট, টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্ট এবং পেবল স্টোন রিসোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। ২০০৯ সালে পাটুয়াটেক এলাকায় ‘কোরাল স্টেশন’ নামক ছোট একটি রেস্টুরেন্ট দিয়ে এই বাণিজ্যিক ধারার সূচনা হয়। পরবর্তীতে সি মাউন্ট ও ওশান কিচেনসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। বিশেষ করে ২০১৫ সালে রয়্যাল টিউলিপ হোটেল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই এলাকায় রিসোর্ট তৈরির হিড়িক পড়ে যায়। সেগুলো হলো— সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, বে ওয়াচ, সাগরলতা রিসোর্ট, বেলাভূমি রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলা, দ্য ওয়েভ রিসোর্টস লিমিটেড, হোটেল ইনানী লং বে, ইনানী রয়্যাল রিসোর্ট, ইনানী বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, ডেরা রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, সেইলর বিচ রিট্রিট, টুপটুপ। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক চেইন হোটেল রয়্যাল টিউলিপের মাধ্যমে সি পার্ল হোটেল প্রতিষ্ঠা পায়। এভাবে প্রায় ৯-১০টি প্রতিষ্ঠান রেস্টুরেন্ট থেকে আবাসিক সেবায় উন্নীত হয়েছে। পুরোনো রেস্টুরেন্টগুলো একেকটি রিসোর্ট-হোটেলে পরিণত হয়েছে।

অনেক রেস্টুরেন্টকে পরে অবৈধভাবে রিসোর্টে রূপান্তর করা হয়েছে। যেমন টুপটুপ রিসোর্ট ২০২৩ সালে রেস্টুরেন্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরে আবাসিক সেবায় যুক্ত হয়। একইভাবে স্যালমন রেস্টুরেন্ট ও ওশান কিচেনের পাশে বেলাভূমি ও অ্যাঙ্কর রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, বছর দশেক আগেও এখানে শুধু খাবার হোটেল ছিল, কিন্তু এখন রেস্টুরেন্টগুলোর পরিসর বাড়িয়ে সেগুলোকে রিসোর্ট বানানো হয়েছে। এমনকি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে পরিচিত বালিয়াড়িতেও ‘ঝাউবাগান বিচ রেস্টুরেন্ট’ ও ‘সাদাবালি’র মতো অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এরপর থেকেই মূলত এখানে রিসোর্ট তৈরির প্রবণতা বাড়তে শুরু করে। পরে মালিক তানভীর মিয়া ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদকে সঙ্গে নিয়ে রেস্টুরেন্টটিকে রিসোর্টে রূপান্তর করেন।

সৈকত দখল করে কিটকট চেয়ার বসিয়ে ব্র্যান্ডিং করার অভিযোগ রয়েছে পালংকি, বে ওয়াচ, সি পার্লসহ ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, বৈধ হোটেলগুলো সমিতির তালিকাভুক্ত থাকলেও এসব আইনবহির্ভূত রিসোর্টকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তর গত এক বছরে প্রায় ৫৮টি হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টকে প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা করেছে এবং শতাধিক হোটেলের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেস্টুরেন্টের পরিচালক মনির বলেন, কাগজপত্র থাকায় এসিল্যান্ড উচ্ছেদ করেননি।

জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান শুরু হবে।

ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, পর্যটন করপোরেশন ও কউক নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসীম উদ্দীন জানান, ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম মনে করেন, কক্সবাজারের পর্যটন ও পরিবেশ রক্ষায় একটি ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি।

সৈকত ও পরিবেশ ঠিক না থাকলে এই শিল্প দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এই বিভাগের আরো খবর