1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
রাবির সাংবাদিকতা বিভাগে প্রথিতযশা দুই সাংবাদিকের নামে শিক্ষাবৃত্তি চালু - আজকের কাগজ
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে : প্রধানমন্ত্রী ডিএনসিসির সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করছে ট্রাম্প প্রশাসন খেলাপির জামিনদার হলেও প্রার্থিতা বাতিল করবে ইসি শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই, দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ম্যারাডোনাকে জয় উৎস্বর্গ করে মেসি বললেন ‘ফাইনাল হবে সমানে সমান’ কুড়িগ্রামে নিজ ঘরে আগুন দিয়ে অস্ত্র হাতে যুবকের তাণ্ডব বেরোবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬ পালিত ববি হলে শিবিরকর্মীর ওপর মব সৃষ্টি, ছাত্রদল সভাপতিসহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ ‘এক্সিট পলিসি’ চালু

রাবির সাংবাদিকতা বিভাগে প্রথিতযশা দুই সাংবাদিকের নামে শিক্ষাবৃত্তি চালু

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬ ১০:০৮ পিএম
শেয়ার করুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নিয়মিত বৃত্তির বাইরে গিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথমবারের মতো নিজস্ব শিক্ষাবৃত্তি চালু করেছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। প্রথিতযশা দুই সাংবাদিকের স্মরণে চালু হওয়া এই শিক্ষাবৃত্তির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাংবাদিক আহমেদুর রহমান–হাবিবুর রহমান মিলন শিক্ষাবৃত্তি’।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল (সাজ্জাদ বকুল)-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালনরত উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদউদ্দিন খান। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রয়াত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান মিলনের কন্যা, লেখিকা অদিতি রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, অধ্যাপক মশিহুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার, সহযোগী অধ্যাপক আমেনা খাতুন এবং সহযোগী অধ্যাপক মো. আতিকুর রহমান। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ বছর শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছেন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার এবং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাধবী রাণী রায়। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই সম্মাননা তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করবে এবং সহপাঠী ও অনুজদের জন্যও একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে ঢাকার প্রয়াত দুই গুণী সাংবাদিক আহমেদুর রহমান ও হাবিবুর রহমান মিলনের পরিবারের সদস্যরা বিভাগের শিক্ষক ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে পাঁচ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। নীতিমালা অনুযায়ী জমাকৃত অর্থের মুনাফা থেকে প্রতি বছর বিভাগের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের সর্বাধিক সিজিপিএধারী একজন করে মোট তিনজন শিক্ষার্থীকে এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হবে। মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত এই বৃত্তির অর্থ শিক্ষার্থীরা প্রতি ছয় মাস অন্তর হাতে পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক মশিহুর রহমান বলেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বয়স তিন দশক পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বৃত্তির বাইরে এই প্রথম একটি নিজস্ব বিভাগীয় বৃত্তি চালু করা সম্ভব হলো। এটি বিভাগের জন্য আবেগের বিষয়।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি অঙ্গীকার ও দায়বদ্ধতা। আহমেদুর রহমান ও হাবিবুর রহমান মিলন সমাজের ইতিবাচক অর্জন ও সংগ্রামের মূল্যবোধ ধারণ করে আজীবন কাজ করে গেছেন। এই বৃত্তি যেমন স্বীকৃতির প্রতীক, তেমনি এটি নতুন দায়িত্ববোধ ও অঙ্গীকারের প্রত্যাশাও তৈরি করে।

ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে লেখিকা অদিতি রহমান বলেন, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক সময় ভালো উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। তবুও এই শিক্ষাবৃত্তির যাত্রা শুরু হওয়াটাই বড় প্রাপ্তি। অর্থের পরিমাণ বড় না হলেও এটি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা প্রথিতযশা সাংবাদিকদের আদর্শ ধারণ করে পেশাগত জীবনে সৎ ও দায়বদ্ধ সাংবাদিক হয়ে উঠবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, একাডেমিক কার্যক্রমে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে অনেক সময় বিভাগ চাইলেও দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। নানা ধাপ অতিক্রম করে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এসব কারণেই দীর্ঘ আট বছর এই শিক্ষাবৃত্তি চালু করা যায়নি। অবশেষে আজ এটি বাস্তবায়িত হওয়ায় বিভাগ আনন্দিত। তিনি বলেন, এই উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ঐকান্তিক সহযোগিতা বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ফরিদউদ্দিন খান বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে এই শিক্ষাবৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে প্রথিতযশা সাংবাদিকদের নামে এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের পেশাগত দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতা শেখাতে সহায়ক হবে।

প্রসঙ্গত, সাংবাদিক আহমেদুর রহমান ও হাবিবুর রহমান মিলন ছিলেন দেশের সংবাদপত্র জগতের দুই দিকপাল ও সহোদর। ষাটের দশকের প্রথিতযশা সাংবাদিক আহমেদুর রহমান দৈনিক ইত্তেফাকে ‘ভীমরুল’ ছদ্মনামে তীক্ষ্ণ লেখনীর জন্য পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। তার ছোট ভাই একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ সাংবাদিক হাবিবুর রহমান মিলন দৈনিক ইত্তেফাকের উপদেষ্টা সম্পাদক এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের অন্যতম অভিভাবক ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় নিবেদিত এই দুই গুণী ব্যক্তিত্বের স্মৃতি ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এই শিক্ষাবৃত্তি প্রবর্তন করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর