1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
রুয়েটের জমি পুনরুদ্ধারে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন - আজকের কাগজ
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
৮ শ্রেণির মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি নেওয়া ব্যক্তিদের তথ্য চেয়েছে সরকার কটিয়াদীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত ও চারজন আহত ৭ হাজার টাকা কমেছে, যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ দিল্লিতে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের সেমিনারের চেষ্টা, মিলল না অনুমতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে: চিফ প্রসিকিউটর অভিনয়ে আর ফিরবেন না পপি ছিনতাইয়ের কবলে শিক্ষিকা নিহত : গ্রেপ্তার দুই আসামিকে নিয়ে যা জানাল র‍্যাব মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুদামের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সরকার কাজ করছে: খাদ্যমন্ত্রী

রুয়েটের জমি পুনরুদ্ধারে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

রুয়েট প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ৬:২২ পিএম
শেয়ার করুন

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) মালিকানাধীন জমি পুনরুদ্ধার, সীমানা সুরক্ষা এবং অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় রুয়েট প্রশাসনিক ভবন থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে রাজশাহীর তালাইমারিতে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও শিক্ষাবর্ষের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

“রুয়েটের জমি রক্ষা করুন-সীমানা সুরক্ষিত করুন; অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করুন” শীর্ষক মানববন্ধনটি ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে রুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তারা “রুয়েটের সীমানাপ্রাচীর মুক্ত করো, মুক্ত করো”, “অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দাও, গুড়িয়ে দাও”,”আমাদের দুই দফা মানতে হবে, মানতে হবে” সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তারা প্রশাসনের নিকট মূলত দুটি দাবি জানান। এগুলো হলো: রুয়েটের মালিকানাধীন জমিতে নির্মিত পাবলিক টয়লেটসহ সকল অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদ এবং মেইন গেট ও সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা অননুমোদিত ভ্রাম্যমাণ দোকান ও স্থাপনা অপসারণ।

তাদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নগরীর তালাইমারি এলাকায় রুয়েটের মালিকানাধীন জমিতে সীমানাপ্রাচীর ভেঙে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনাটি বিদ্যমান থাকলেও বিগত রুয়েট প্রশাসন জমি পুনরুদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বর্তমানে এর পাশেই পুরকৌশল অনুষদের ১০তলা প্রাতিষ্ঠানিক ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ভবনের সামনেই এমন স্থাপনায় শিক্ষার পরিবেশ, নিরাপত্তা, চলাচল ও ক্যাম্পাসের নান্দনিকতায় বিরুপ প্রভাব ফেলার উদ্বেগ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সামগ্রিক দাবি নিয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিরাত শাফিন তুর্য্য বলেন,”আজকে আমাদের দুটি দাবি-রুয়েটের সীমানায় ফ্যাসিষ্ট আমলের একটি পাবলিক টয়লেট এবং প্রাচীর সংলগ্ন সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। কারণ রুয়েটের সীমানার ভেতরে কোনো অবৈধ স্থাপনা চাই না। পাবলিক টয়লেট থাকলে, সেটা অন্যত্র থাকবে, রুয়েটের সীমানা প্রাচীর ভেঙে নয়। এছাড়া সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে অনেকগুলা অবৈধ স্থাপনা পথচারীদের, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। মেইন রোড-যেখানে ভারী যানবাহন চলাচল করে, আমাদের পথচারীরা বা শিক্ষার্থীরা সেই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়। এটা ঝুঁকিপূর্ণ সিচুয়েশন তৈরি করছে এবং প্রতিনিয়ত এক্সিডেন্ট ঘটতেই থাকছে। এসব স্থাপনাগুলাকে উচ্ছেদ করে ফুটপাতটাকে মুক্ত করতে হবে, যাতে আমাদের সবাই নিরাপদে চলাচল করতে পারি।”

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা সাতদিনের আল্টিমেটাম জানিয়ে বলেন, পাবলিক টয়লেট থেকে শুরু করে দোকানপাট সহ অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা অতিদ্রুত অপসারণ করতে হবে। তবে এই সময়ের পরে উদ্ভূত কোনো পরিস্থিতির দায় রুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বহন করবে না।

এছাড়াও মেইন গেটসংলগ্ন ও সীমানাপ্রাচীরের ধারে গড়ে ওঠা অনুমোদিত ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান তারা। জনসাধারণের পাবলিক টয়লেট প্রয়োজন হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির বাইরে উপযুক্ত স্থানে বৈধ ভাবে নির্মাণের তাগাদা দেন। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির অবৈধ দখল বা ব্যবহারের হাত থেকে রক্ষায় স্থায়ী নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসের প্রাচীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য অননুমোদিত স্থাপনা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, সুষ্ঠু পরিবেশ ও নান্দনিকতার জন্য উদ্বেগের কারণ। দেশের অন্যতম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় রুয়েট শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের জাতীয় সম্পদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইঞ্চি জমি, সীমানা ও অবকাঠামো রক্ষায় প্রশাসনকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান অননুমোদিত স্থাপনাগুলো অপসারণের পাশাপাশি কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে এসব স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখারও দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য এর আগে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তারই প্রেক্ষিতে গত ২২ আগস্ট এ সংক্রান্ত ছয় দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপিতে ক্যাম্পাসের জমি দখল করে নির্মিত অননুমোদিত ও অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ, সীমানাপ্রাচীর ভেঙে জমি দখল বা অবৈধ ব্যবহারের অংশ চিহ্নিত করে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে সীমানাপ্রাচীর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবিও জানানো হয়।

এই বিভাগের আরো খবর