
দেশের বিভিন্ন মুরগির বাচ্চা উৎপাদনকারী পোলট্রি হ্যাচারির ইনকিউবেটরে (কৃত্রিম উত্তাপে ডিম ফোঁটানো) নষ্ট হয়ে যাওয়া ডিম সরবরাহ হচ্ছিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রঙ্গিলাবাজার এলাকায় নিউ হৃদয় ফুড প্রোডাক্টসে। ওই কারখানায় নষ্ট ডিম দিয়ে খাদ্য পণ্য উৎপাদন করে বাজারজাত করা হত। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার রাতে কারখানাটিতে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে ওই কারখানা থেকে আট হাজার পচা ডিম ও পচা ডিম দিয়ে উৎপাদিত তিন বস্তা বেকারি পণ্য জব্দ করা হয়।
ওই সময় আটক করা হয় কারখানাটির মালিক হানিফ রহমানের ছোট ভাই (কারখানার দায়িত্বে থাকা) হোসেন আলী (৩৫) ও পচা ডিম সরবরাহকারী সেলিমকে (৩০)।
অভিযুক্ত হোসেন আলী শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ এলাকার মৃত নূরু মিয়ার ছেলে ও সেলিম জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বলারদিয়া গ্রামের মৃত ছাইদুর রহমানের ছেলে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত হোসেন আলীকে এক লাখ ও সেলিমকে ৪৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। একইসঙ্গে জব্দ করা পচা ডিম শ্রীপুর পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ধ্বংস করা হয়।
পচা ডিম দিয়ে উৎপাদিত তিন বস্তা বেকারি পণ্য রাতেই পাশে বরমী বাজারে বানরের খাবার হিসেবে সরবরাহ করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন কালের কণ্ঠকে জানান, ওই কারখানায় পোলট্রি হ্যাচারির নষ্ট ডিম দিয়ে বেকারি পণ্য উৎপাদন করা হত বলে তথ্য ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই কারখানায় অভিযান চালান। অভিযানে কারখানার ভেতর থেকে ৮ হাজার পচা ডিম ও পচা ডিম দিয়ে উৎপাদিত তিন বস্তা বেকারি পণ্য জব্দ করা হয়।
তিনি বলেন, ‘কারখানার দায়িত্বে থাকা হোসেন আলীকে এক লাখ ও পচা ডিম সরবরাহকারী সেলিমকে ৪৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ওই টাকা পরিশোধের পর রাত প্রায় দুইটার দিকে তাঁদের (হোসেন আলী ও সেলিম) ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
একটি সূত্র জানায়, এর আগে ২০১৪ সালের ১৩ অক্টোবর শ্রীপুর উপজেলার পটকা এলাকার নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি থেকে ঢাকায় বিক্রির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়ার পথে ১৭ হাজার পচা ডিম জব্দ করেছিল পুলিশ।
Leave a Reply