1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
আড়াই শ ছবির মধ্যে মাত্র ১১টি ছবিকে সেরা মনে করেন পরেশ - আজকের কাগজ
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
যশোর বোর্ডে এইচএসসি ফলাফল: পাশের হার ও জিপিএ-৫ এ পতন সরকারি ফ্ল্যাটে সাবলেট উচ্ছেদ: বাড়ি ছাড়তে হচ্ছে ইডেন-বদরুন্নেসার শিক্ষার্থীদের রংপুরের পীরগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু বরিশাল বোর্ডে এইচএসসিতে পাশের হার ৪৪.৮৪ শতাংশ এক-দুই বিষয়ে ফেল করা এইচএসসি শিক্ষার্থীরা এক মাসেই ফের পরীক্ষার সুযোগ গণভোটের রায় না মানলে চরম মূল্য দিতে হবে: জামায়াত আমির যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দিয়ে ইতিহাস গড়লেন পোপ চতুর্দশ লিও ইউক্রেনকে ২১০ কোটি ডলারের ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাজশাহীর চারঘাটে বিকল্প ফসল চাষে আয়ের নতুন স্বপ্ন ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম

আড়াই শ ছবির মধ্যে মাত্র ১১টি ছবিকে সেরা মনে করেন পরেশ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪১ পিএম
শেয়ার করুন

চার দশকের দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে পরেশ রাওয়াল উপহার দিয়েছেন আড়াই শ-এর বেশি চলচ্চিত্র। খলনায়ক থেকে শুরু করে হাস্যরসাত্মক কিংবা গুরুগম্ভীর চরিত্রে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই প্রবীণ অভিনেতা। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে ১৪তম জাগরণ চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের কাজের এমন কঠোর মূল্যায়ন করেছেন তিনি। উৎসবে অনন্ত নারায়ণ মহাদেবন পরিচালিত ‘পাস্ট টেন্স’ সিনেমার প্রদর্শনী শেষে দর্শকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজের ক্যারিয়ারের নানা দিক তুলে ধরেন পরেশ। আবার কখনো গুরুগম্ভীর চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। পরেশ জানান, ছবিটির দ্বিতীয়ার্ধ প্রত্যাশামতো এগোয়নি। জাগরণ চলচ্চিত্র উৎসবের প্রশ্নোত্তর পর্বেও উঠে আসে বাবুরাওয়ের প্রসঙ্গ।

উপস্থাপকের সঙ্গে আলাপচারিতার একপর্যায়ে পরেশ জানান, অভিনয়ের এত দীর্ঘ যাত্রায় ঠিক কতটি ছবিতে কাজ করেছেন তার সুনির্দিষ্ট হিসাব তার কাছে নেই, তবে নিজের করা ভালো কাজের একটি তালিকা অবশ্যই আছে। উপস্থাপক যখন তার অভিনীত ছবির সংখ্যা প্রায় ২৫০ হতে পারে বলে উল্লেখ করেন, তখন অভিনেতা জানান সংখ্যাটি আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এত বিশাল কাজের ভাণ্ডার থেকে কতটি সিনেমাকে নিজের সেরা মনে করেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই তিনি জানান, ‘মাত্র ১১টি।’ উপস্থিত দর্শকেরা এমন উত্তরে বেশ অবাক হন এবং পাশে থাকা তার ছেলে অভিনেতা আদিত্য রাওয়াল সায় দিয়ে জানান যে, তারাও এটি হিসাব করে দেখেছেন। তবে ভালো ছবিগুলো কয়টি, সেটা আমার জানা আছে।’। তাঁর মন্তব্য, ‘সব ১১টি ছবির নাম এখন বলতে পারব না। তাঁর এমন জবাবে হাসিতে ফেটে পড়েন উপস্থিত দর্শকেরা।

নিজের পছন্দের সিনেমার তালিকায় পরেশ প্রথমেই রেখেছেন ১৯৯৩ সালের জীবনীভিত্তিক ছবি ‘সরদার’।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তার কাছে হৃদয়ের খুব কাছের। এছাড়া ১৯৯৭ সালের ‘তামান্না’, ২০০৮ সালের ‘ওয়ে লাকি! লাকি ওয়ে! এবং একই বছরের ‘মুম্বাই মেরি জান’ সিনেমাগুলোকেও তিনি পছন্দ করেন। সত্যজিৎ রায়ের গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ‘দ্য স্টোরিটেলার’ (২০২৫) সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতাটিও তার কাছে বিশেষ আনন্দের ছিল। তালিকায় ২০০০ সালের ‘হেরা ফেরি’ ও ১৯৮৭ সালের ‘ডাকাইত’ সিনেমার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সবগুলোর নাম এখনই মনে করা সম্ভব নয় বলে জানালেও, নিজের কাজের মানদণ্ডে এমন ১১টি সিনেমা তার প্রিয় তালিকায় রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন এই শিল্পী। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হেরা ফেরি’ ছবিতে এই চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ব্যাপক ভালোবাসা পান তিনি।

আশির ও নব্বইয়ের দশকের বাণিজ্যিক ছবিতে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ ঝরেছে তার কণ্ঠে। পরেশ রাওয়ালের মতে, সে সময়কার অনেক খলচরিত্রই অযৌক্তিক ও হাস্যকর ছিল। চরিত্রগুলোকে উপভোগ্য করতে অনেক সময় তাদের বাড়তি হাস্যরস যোগ করতে হতো। তবে ‘ডাকাইত’ সিনেমাটিকে তিনি নিজের প্রিয় খলচরিত্র হিসেবে আলাদা করে গুরুত্ব দেন। তিনি মনে করেন, হিন্দি চলচ্চিত্রে খলনায়কের চিত্রায়ন আরও বাস্তবসম্মত হওয়া প্রয়োজন। কৃত্রিম সাজপোশাক বা অতিরঞ্জিত আচরণের চেয়ে বাস্তব জীবনের মানুষের মতো খলচরিত্র ফুটিয়ে তোলার পক্ষেই মত দেন তিনি। চরিত্রটির জন্য অনেক পরিশ্রম করেছিলাম। বাস্তব জীবনের একটি চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত ছবিটিতে অভিনয় করেও তৃপ্তি পেয়েছিলেন। চিত্রনাট্যকারদেরও এ বিষয়ে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত। তাঁর ভাষায়, ‘খলনায়ককে দেখেই যেন মনে না হয়, লোকটা খলনায়ক। বরং মনে হওয়া উচিত, এমন একজন মানুষকে বাসস্ট্যান্ড কিংবা ট্যাক্সিস্ট্যান্ডেও দেখেছি। কৃত্রিম সাজপোশাক, দাড়ি-গোঁফ আর অতিরঞ্জিত আচরণ দিয়ে খলনায়ক তৈরি করার প্রবণতার সমালোচনা করেন তিনি।

‘পাস্ট টেন্স’ সিনেমাটি পরেশ ও তার ছেলে আদিত্য রাওয়ালের জন্য বিশেষ একটি কাজ, কারণ এতেই প্রথমবারের মতো তারা দুজন একসঙ্গে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি পরিষ্কার করে জানান, ছেলের সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার পেছনে তার নিজের কোনো প্রভাব ছিল না। পরিচালক অনন্ত নারায়ণ মহাদেবনই শিল্পী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিচালক চেয়েছিলেন কাজটি যেন স্বচ্ছ থাকে এবং বাবা-ছেলে একসঙ্গে কাজ করছেন বলে কেউ যেন এটাকে বিশেষ সুবিধা হিসেবে না দেখে। সিনেমার গল্প পছন্দ হওয়ার কারণেই পরেশ এতে অভিনয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

ক্যারিয়ারের আরেকটি আক্ষেপের জায়গা হলো শিল্পধর্মী বা ভিন্নধারার সিনেমায় সুযোগের অভাব। পরিচিত বাণিজ্যিক মুখ হওয়ায় অনেক নির্মাতা মনে করেন পরেশ হয়তো বেশি পারিশ্রমিক দাবি করবেন, তাই তাকে এই ধরনের কাজের প্রস্তাব দিতে অনেকে দ্বিধা করেন। বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘তাঁরা ভাবেন, আমি ছবিটি করব ঠিকই, কিন্তু বেশি টাকা চাইব। আর আমার বেশি টাকা চাওয়াই উচিত!’ তবে বাস্তবে ভালো চিত্রনাট্য ও শক্তিশালী চরিত্রের সুযোগ পেলে তিনি কখনোই তা হাতছাড়া করতে চান না।

অনুষ্ঠানে দর্শকদের পক্ষ থেকে তার অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র বাবুরাও গণপতরাও আপ্তের বিখ্যাত কোনো সংলাপ শোনানোর আবদার করা হয়। কিন্তু অভিনেতা সেই অনুরোধ বিনয়ের সঙ্গে এড়িয়ে গিয়ে স্বভাবসুলভ রসিকতায় বলেন, ‘না, না। ওটার জন্য টিকিট কাটতে হবে!’ তার এমন উত্তরে হাসির রোল পড়ে যায় পুরো মিলনায়তনে।

এই বিভাগের আরো খবর