1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
অপ্রতিমকে হত্যার বর্ণনা দিয়েছে: পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান - আজকের কাগজ
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

অপ্রতিমকে হত্যার বর্ণনা দিয়েছে: পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৩৮ পিএম
শেয়ার করুন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় মাথা আঘাত করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে আইফোনটি নিয়ে ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টায় কুমিল্লা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ রাতদিন এক করে কাজ করছে। মূলত নিখোঁজের পর তার বাবার করা জিডির সূত্র ধরেই পুলিশ তদন্তে নামেন।
এ ঘটনায় সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে বলে এসপি জানান। এর আগে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। রাত পর্যন্ত অপ্রতিম বাসায় না ফেরায় তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের পরদিন গতকাল শনিবার দুপুর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার পেশায় একজন ব্যবসায়ী।অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দেখে তুহিন নামে একজনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসানকে আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি এই তিনজনই জড়িত ছিলেন। পরে কামরুলের প্রথমতে সিয়ামকে আটক করা হয়। ঘটনার সঙ্গে সিয়ামের সম্পৃক্ততা কতটুকু সেটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় শনিবার মধ্যরাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এদিকে, রোববার সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসীসহ মানুষের ঢল নামে। পরে সেখান থেকে অপ্রতিমের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কোটবাড়ি গন্ধমতি ঈদগাঁও মাঠে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাদের বাড়ির পাশের কবরস্থানের তাকে দাফন করা হয়।
অপরদিকে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত আসামিদের গ্ৰেফতার এবং বিচার নিশ্চিতের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় সকাল সাড়ে ১১টায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে দুপুর ১টায় তারা চার দফা দাবি জানিয়ে মহাসড়ক ছেড়ে দেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার কার্যক্রম নিষ্পত্তি এবং ফাঁসির রায় কার্যকর করা; পুলিশের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা; কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা এবং প্রয়োজনে সাঙ্গীনির পুলিশ ফাঁড়ি কুবির পাশে স্থানান্তর করা সর্বশেষ দাবির মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া, কুবি এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ ইউনিট গঠনের দাবি জানানো হয়। এরপর পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

এই বিভাগের আরো খবর