
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম–৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর) সংসদীয় আসনে সৃষ্টি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই আসনে সাবেক স্বামী ও স্ত্রী ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতি ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এই আসনে জাতীয় পার্টি (এ)-এর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কে এম ফজলুল মন্ডল। অপরদিকে তার সাবেক সহধর্মিণী মোছা. শেফালী বেগম বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)-এর মনোনয়নে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিচ্ছিন্ন হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের মুখোমুখি অবস্থান কুড়িগ্রাম–৪ আসনের নির্বাচনী লড়াইকে এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক স্বামী–স্ত্রীর ভিন্ন দলে নির্বাচন এই অঞ্চলের রাজনীতিতে বিরল ঘটনা। এতে করে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও আলোচনা বাড়ছে।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখলেও অধিকাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় না এনে প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান, যোগ্যতা ও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সক্ষমতা বিবেচনা করেই ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।
নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই শেষে উভয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি (এ)-এর প্রার্থী কে এম ফজলুল মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, তার সাবেক স্ত্রী পূর্বে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন এবং চাকরি ছাড়ার তিন বছর পূর্ণ হয়নি—এ অবস্থায় তার মনোনয়ন বৈধ হওয়া নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী মোছা. শেফালী বেগমের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, কুড়িগ্রাম–৪ আসনের নির্বাচন এবার শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং সাবেক স্বামী–স্ত্রীর মুখোমুখি লড়াইয়ের কারণে একটি আলোচিত নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
Leave a Reply