
কুমিল্লায় রাতের আঁধারে বনের গাছ লুট করে দেদারছে বিক্রি করছে বন কর্মকর্তারা। রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে কয়েকজন বন কর্মকর্তা। আদর্শ সদর উপজেলার জামবাড়ি ও বুড়িচং উপজেলার কালীকৃষ্ণনগর এলাকার সামাজিক বনায়নের ৫ শতাধিক গাছ লুট হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, উপকারভোগীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে বন কর্মকর্তারা এসব গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছে। এ বিষয়ে মুখ খুললে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অনুসদ্ধানে জানা গেছে , কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক বনায়নের আওতায় বন বিভাগের জায়গায় ৫৫ শতাংশ সরকারি ও ৪৫ শতাংশ ব্যক্তিমালিকানা চুক্তিতে বৃক্ষরোপণ করা হয়। চুক্তির আলোকে জামবাড়ি এবং কালীকৃষ্ণনগর এলাকায় ৩শত ২৫ একর বনভূমিতে আকাশমণি গাছ রোপণ করা হয়। দুই উপজেলার বনভূমির গাছ পরিণত হওয়ায় এখন চলছে স্বয়ংক্রিয় করাত দিয়ে কেটে হরিলুট। রক্ষক বন কর্মকর্তারাই এখন ভক্ষকে পরিণত হয়েছে। সুযোগ পেলেই রাতের অন্ধকারে তারা গাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে স্থানীয় উপকারভোগী ও সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে বাগানে বাবুল মিয়া নামে বন বিভাগ কর্তৃক নিযুক্ত একজন পাহারাদার থাকলেও গাছ কাটার সময় লুটেরাদের পাহারা দেয় সে।
জামবাড়ির উপকারভোগী খোরশেদ আলম বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে গাছগুলো বড় করেছি। বন কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ বা দরপত্র ছাড়াই কয়েকবার গাছ কেটে নিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা আমাদেরকে মামলার হুমকি দেয়।
আরেক উপকারভোগীর সন্তান কবির হোসেন বলেন, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের লুটপাটে সরকার ও আমরা ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জামবাড়ি এলাকার বনের গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এলাকার লোকজন অনেক কিছুই বলতে পারে তবে এসব কথার ভিত্তি নেই।
এদিকে বুড়িচংয়ের কালীকৃষ্ণনগর বনভূমিতেও চলছে হরিলুট। সেখানে বন কর্মকর্তা ইয়াজুল হক গাছ বিক্রি ও লুটপাটে সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ উপকারভোগীদের। ওই বন কর্মকর্তা নিজে উপস্থিত থেকে গাছ কেটে বিক্রি করছে। উপকারভোগীরা মুখ খুললেই তাদের মামলার ভয় দেখাচ্ছে। স্থানীয় উপকারভোগী মিজানুর রহমান বলেন, ১৮৭ একর ভূমিতে বনায়ন করা হয়েছে। বন কর্মকর্তা ইয়াজুল কয়েকশ গাছ কেটে সংকুচাইল বাজারে একটি স মিলে বিক্রি করে দিয়েছে। ইয়াজুলকে হাতেনাতে ধরেছি। তাৎক্ষণিক ওই বনকর্মকর্তা কান ধরে ক্ষমা চেয়েছে। আমরা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা ইয়াজুল বলেন, তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। গাছ বিক্রির সঙ্গে আমি জড়িত নই। এসব গাছ অন্য কেউ বিক্রি করে থাকতে পারে।
কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, বুড়িচংয়ে সামাজিক বনায়নের আকাশমণি গাছ কাটার অভিযোগ পেয়েছি। তবে জামবাড়ি এলাকা থেকে এখনো অভিযোগ পাইনি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।