
বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা কথা দিয়েছিলাম কারো বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করবো না, আমাদের ওপর জুলুমের প্রতিশোধ নেবো না, আমরা কথা রেখেছি। তাই জামায়াতের সঙ্গে থাকলে সব ধর্মের মানুষের সম্পদ ও জানমাল নিরাপদে থাকবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতের ইসলামীর আমির বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেলে নারীদের ইজ্জত রক্ষা করব এবং সম্মানের সাথে ঘরে-বাইরে বসবাসের সুযোগ করে দেব।
পাঁচ বছর পর একজন সংসদ সদস্যের সম্পদের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন, তারা জনগণের সম্পদের দিকে নজর দেবেন না। সম্পদ লুট করে বেগমপাড়া ও সিঙ্গাপুর বানাবেন না।
দুপুর ২টায় থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশের কাজ শুরু হয়।
ডা. শফিকুর বলেন, সারা দুনিয়ায় শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। খুলনায় ৫৪ বছরে শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নতুন করে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প চালু করা হবে এবং যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, আমাদের একটি বন্ধু সংস্থা ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তারা একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছেন, অন্যদিকে আমার মায়ের গায়ে হাত দিচ্ছেন। এই দুইটি একসাথে চলে না। আমি অনুরোধ করবো, নিজের মাকে সম্মান করুন। যদি নিজের মাকে সম্মান করতে পারেন, তাহলে গোটা মা জাতিকে সম্মান করতে পারবেন। আর যদি নিজের মাকে সম্মান না করেন, তাহলে কোন নারীকেও সম্মান করতে পারবেন না।
আজকে বিভিন্ন জায়গায় হামলার ঘটনা ঘটছে না। মাঘ মাসে মাথা গরম হলে চৈত্র মাসে কি করবেন? এখন তো আরামদায়ক আবহাওয়া, তাই মাথা ঠান্ডা রাখুন। জনগণের রায়ের প্রতি আস্থা রাখুন। অতীতে যারা জনগণের রায়ের প্রতি আস্থা রাখেননি, তাদের পরিণতি থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
জামায়াত আমির জনসভায় আগত সবাইকে ভোটের পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রত্যেক নর-নারীর ভোটের অধিকারের পাহারাদার হবেন। ভোট যে যেখানে দিবে, সেটি নিশ্চিত করা হবে। তবে আমরা চাই ভোটারকে বাক্স পর্যন্ত পৌঁছে দিতে। ১৩ ফেব্রুয়ারি আমি একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই।
এই সময় তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কালে এবং ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠার তাণ্ডবে নিহত সব শহীদের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন। এ ছাড়া আহত, পঙ্গু, নির্যাতিত, গুমের শিকার ও দেশান্তরী হওয়া সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ আমি এখানে জামায়াতের পক্ষে কথা বলার জন্য দাঁড়াইনি। বিগত ১৬ বছরে যেসব মায়ের বাবার বুক খালি করা হয়েছে, যেসব বোনের স্বামী কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যেসব শিশুকে পিতাহারা করা হয়েছে, আমি তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়েছি। ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছি।
অনেকেই পুরাতন ফ্যাসিবাদের অ্যাপ্রোন গায়ে দিতে চাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে দেশের যুব সমাজ তা আর সম্ভব নয় জানিয়েছে। পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যুব সমাজও একই বার্তা দিয়েছে।
বক্তব্য শেষে খুলনা-৬ আসনের ১১ দলের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন তিনি।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, মহানগরী আমির খুলনা-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচনী জনসভা প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা রাশেদ প্রধান, খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা-৪ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দেওয়াল ঘড়ির প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন প্রমুখ।
খুলনার কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। জনসভায় ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন প্রেরণা সাহিত্য সংসদ ও টাইফুন শিল্পী গোষ্ঠী।
Leave a Reply