1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
জুলাইয়ের পরও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ন

জুলাইয়ের পরও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা

মাসফিকুল হাসান,বেরোবি প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬ ৮:২৮ পিএম
শেয়ার করুন

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মো. তারিকুল ইসলামকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সক্রিয়ভাবে আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকলেও সরকার পরিবর্তনের পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বর্তমানে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা ফোরামের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সহসাধারণ সম্পাদক এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল শাখায় দায়িত্ব পালন করতেন। পরে সরকার পরিবর্তনের পর তাকে সংস্থাপন শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তরে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমানে তিনি বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা ফোরামের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সভায় অংশ নিচ্ছেন এবং নিজেকে অতীতে বঞ্চিত কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই তার চাকরি হয় এবং পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পদোন্নতিও পান। ফলে নিজেকে “বঞ্চিত” দাবি করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে তার প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। এ নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে নানা আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংস্থাপন শাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তর। নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মতো কার্যক্রম এ শাখা থেকেই পরিচালিত হয়। ফলে এ দপ্তরে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে ঘিরে বিতর্ক প্রশাসনিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে সম্প্রতি অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদনকারীদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই কমিটিতেও তাকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই পদে তিনি নিজেও আবেদন করেছেন। তিন সদস্যের যাচাই-বাছাই কমিটির দুই সদস্যই আবেদনকারী হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অন্য আবেদনকারীরা।

তাদের দাবি, নিজেরাই আবেদনকারী হয়ে আবার নিজের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার একাধিক রাজনৈতিক পোস্ট, শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারের ছবি, আওয়ামী লীগপন্থী নেতাদের পোস্ট শেয়ার এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগানসংবলিত স্ট্যাটাস রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেদকের কাছে এ সংক্রান্ত কিছু স্ক্রিনশট ও তথ্যও এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি অতীতে কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী প্যানেল থেকে অংশ নেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। তাদের ভাষ্য, “আমরা তাকে দীর্ঘদিন আওয়ামীপন্থী হিসেবেই জেনেছি। এখন তিনি বিএনপিপন্থী পরিচয়ে সক্রিয় হয়েছেন বলে শুনছি।”

এদিকে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ গ্রেডের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কমিটিতেও তাকে রাখা হয়েছে। এ নিয়েও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, বিতর্কিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ কার্যক্রমে তাকে সম্পৃক্ত রাখার বিষয়টি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী ফোরামের সহসাধারণ সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে আপনার সাথে ফোনে কোনো কথা বলবো না আপনি সরাসরি দেখা করেন আপনার সাথে পরে দেখা যাবে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, আমি এখন ব্যাস্ত আছি পরে কথা হবে এই বিষয়ে

বিএনপি পন্থী ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান এর কাছে এই অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান এবং দেখা করতে বলেন।

এই বিভাগের আরো খবর