1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
জুলাই ২৪ থেকে জুলাই ২৬,দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ববিতে হয়নি ছাত্রলীগের বিচার - আজকের কাগজ
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সচিব পর্যায়ে বড় রদবদল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১১ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি পদায়ন দাউদকান্দিতে ৫ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, পরোয়ানায় আটক আরও ২ শারদীয়া দূর্গোৎসবে মহাদেবপুরে এমপি’র শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ সরকার বিরোধী দলের সহযোগিত নিতে ব্যর্থ হয়েছে: জামায়াত আমির মালিকসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এক সচিবালয় যাচ্ছে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন কুড়িগ্রামে মাছ কিনতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় মৃত্যু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ‘নিরাপত্তা সমন্বয় সভা’ অনুষ্ঠিত পাশাপাশি তিন কবরে স্ত্রী-সন্তান, শোকে পাথর প্রভাষক!

জুলাই ২৪ থেকে জুলাই ২৬,দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ববিতে হয়নি ছাত্রলীগের বিচার

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ‎
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬ ৯:০৮ পিএম
শেয়ার করুন

জুলাই ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৬,দুই বছর বছর হয়ে গেলেও ২৪ এর জুলাইয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নানানভাবে বাধা প্রদান ও হামলাকারী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রশাসন। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অনাস্থা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।‎

‎শিক্ষার্থীরা জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নানানভাবে আন্দোলনে বাধা প্রদান ও প্রত্যক্ষ হামলা চালায় নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীরা। আন্দোলন চলাকালীন তারা নানা ভাবে আন্দোলনে বাধার সৃষ্টি করে এবং হামলা করে আন্দোলন বন্ধের চেষ্টা করে ও সরাসরি শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেই তারা।‎

‎ যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিন হলো ২৯ জুলাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি গ্রাউন্ড ফ্লোরে(প্রশাসনিক ভবন-১ এর নিচতলা) মিটিংরত আন্দোলনের সমন্বয়কসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়।ঐদিন ১৫ জন আহত হয়ে শেরে বাংলা মেডিকেলে কলেজে চিকিৎসা নেয়।‎

‎ এছাড়াও ১ আগস্টে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় হয়রানি, হেনস্তা, ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা প্রদান সহ পুলিশ প্রশাসনের সাথে মিলে আন্দোলন বানচাল করা ও সমন্বয়কদের পুলিশি গ্রেফতারে সহযোগিতা করে ছাত্রলীগের কর্মীরা।এই সকল ঘটনার প্রমাণ থাকলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।‎

‎শিক্ষার্থীরা আরো জানান, এসব হামলাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। ক্যাম্পাসের আশেপাশে ঘুরতেও দেখা যায় অনেককে। যাদের হাতে এখনো শহিদের রক্ত লেগে আছে এবং ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে যারা কাজ করেছে তাদের এইভাবে বিচারহীনভাবে পার পেয়ে যাওয়াকে শিক্ষার্থীরা হাজার হাজার শহিদদের রক্তের সাথে বেইমানি বলে মনে করছেন তারা।‎

‎হামলায় আহত শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়,

‎আন্দোলন চলাকালীন সেসব হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবুল খায়ের আরাফাতের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেন- আবিদ হাসান (গণিত বিভাগ; ২০১৫-১৬ সেশন), মাহমুদুল হাসান তমাল (আইন বিভাগ; ২০১৭-১৮ সেশন), আল সামাদ শান্ত (ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ; ২০১৭-১৮ সেশন), খালেদ হাসান রুমি (ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ; ২০১৭-১৮ সেশন), সাইফ আহমেদ (অর্থনীতি বিভাগ; ২০১৭-১৮ সেশন),সাব্বির হোসেন (বাংলা বিভাগ; ২০১৮-১৯ সেশন), শরীফুল ইসলাম (একাউন্টটিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ; ২০১৮-১৯), রাকিবুল হাসান (বাংলা বিভাগ; ২০১৮-১৯)।‎

‎এছাড়াও মার্কেটিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের টিকলী শরিফ, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অশোক আলী, আইন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহারিয়ার সান ও শেখ মোহাম্মদ সাইফ সহ নাম না জানা আরো ১০-১৫ জন সেসব হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।‎

‎উক্ত হামলা অভিযোগ ও সত্যতার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বরিশাল বন্দর থানায় একটি মামলাও করা হয় কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি দায়সারা মামলা করেছে যার কারনে মামলার কোনো অগ্রগতি নেই।‎

‎জুলাইয়ে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের হামলায় আহত আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম ওহিদুর রহমান বলেন, “২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ছাত্রলীগ বর্বর আক্রমণ চালায়। হামলাকারীদের নাম-পরিচয়সহ তালিকা প্রক্টর অফিসে একাধিকবার জমা দেওয়া হয়েছে এবং ফৌজদারি মামলা দায়েরের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম অবহেলা ও নজরদারির অভাব স্পষ্ট।”

‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া নিবে।‎

‎বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশীদ বলেন, “অবশ্যই আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আগামী সিন্ডিকেটে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হবে। সেখানে সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে একটি জুডিশিয়ারি কমিটি গঠন করা হবে।”

এই বিভাগের আরো খবর