
শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। সর্বশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কুড়িগ্রাম জেলার ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার, অবৈধ নিয়োগ ও ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে।
রবিবার (১ মার্চ) অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এম. এম. সহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সারা দেশের ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা চালানো হয়। প্রকাশিত তালিকায় নাগেশ্বরীতে ৬টি, রাজারহাটে ৩টি, উলিপুরে ৪টি, রৌমারীতে ১টি এবং কুড়িগ্রাম সদরে ২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জাল বা ভুয়া সনদ ব্যবহার, অগ্রহণযোগ্য সনদ, অবৈধ নিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ এবং ভ্যাট-আইটিসহ আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—
জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার, অগ্রহণযোগ্য সনদে নিয়োগ, অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া, অর্থ আত্মসাৎ এবং ভ্যাট-আইটিসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের চিত্র।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, এসব অনিয়মের কারণে প্রায় ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেহাত হওয়া ১৭৬ দশমিক ৫২৩ একর জমি উদ্ধারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ডিআইএ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনসংবলিত পূর্ণাঙ্গ তালিকা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষা খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এমন অনিয়ম প্রকাশে জেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এখন সবার নজর—দায়ীদের বিরুদ্ধে কত দ্রুত ও কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
Leave a Reply