1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
দেশের শত্রুরা ফের মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
নতুন মামলায় ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সব ম্যাচ জয়ের ছক কষছেন কোচ ডুলি বাংলাদেশ-জাপান ৬টি চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মোশাররফ ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তলব বিএফআইইউর উখিয়ায় নলকূপের গ্যাসে আগুন, ৪০ ঘণ্টাতেও অধরা নিয়ন্ত্রণ জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখলে টেন্ডার বাজি-চাঁদাবাজি করা যাবে না: জাবের উৎপাদন খরচের চেয়ে দুধ-মাংসের বাজারমূল্য অনেক বেশি, সংসদীয় কমিটির নজরদারি গুম প্রতিরোধে সংবিধানে নতুন কিছু যুক্ত করার প্রয়োজন নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি, কুড়িগ্রাম-উলিপুরে জামায়াত-শিবিরের বিক্ষোভ ছাগলনাইয়ায় গৃহবধূ ও দুই শিশুকন্যাকে জিম্মি করে সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়

দেশের শত্রুরা ফের মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫ ৯:২৫ পিএম
শেয়ার করুন

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে রয়েছে, ঠিক তখন দেশের শত্রুরা ফের মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লবের’ ঐক্যের চেতনা জাতিকে পথ দেখাতে ‘আরও বেশি প্রাসঙ্গিক’।রোববার (২ নভেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নভেম্বর এই দিনটি রাজনীতিতে গুরুত্বপুর্ণ। ১৯৭৫ সালে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়। দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা শহীদ প্রেসিডেন্টকে বন্দি করে রেখেছিল। সেই অবস্থা থেকে দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনগণ তাকে মুক্ত করে নিয়ে আসে। এরপরই ইতিহাসে শুরু হয় বাংলাদেশের সাফল্যের নতুন অধ্যায়।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন এবং দ্রুতই দেশকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যান, যেখানে আগে বাংলাদেশকে ‘বটমলেস বাস্কেট’ বলা হতো, সেখান থেকে তিনি দেশকে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্তে তুলে ধরেন। তার আমলেই শুরু হয় বাংলাদেশের পুনর্জাগরণ—একটি ইমার্জিং টাইগার হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনা।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা পুরুষ। আমরা সবাই জানি, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে অকুতোভয় সেই সামরিক কর্মকর্তা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপরের পাঁচ বছর ছিল আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের ইতিহাস। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তখন দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল।

সেই সময় বাংলাদেশে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও অপশাসনের কারণে ১৯৭৪ সালে ঘটে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যেখানে লাখ লাখ মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যায়। তৎকালীন অর্থনৈতিক সমিতির সভাপতি স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে বলেছিলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি তীব্র গতিতে রসাতলে যাচ্ছে।মির্জা ফখরুল বলেন, ৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে অবস্থার পরিবর্তন ঘটান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি প্রথম রাজনৈতিক সংস্কারে হাত দেন—একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে দেশকে নিয়ে আসেন বহুদলীয় গণতন্ত্রে।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন, নিষিদ্ধ হওয়া পত্রিকা পুনরায় চালু করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন, গঠন করেন সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল। অর্থনীতিতে তিনি সূচনা করেন নতুন যুগের। তার হাত ধরে গড়ে ওঠে গার্মেন্টস শিল্প, বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়, যার মাধ্যমে রেমিট্যান্স আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে তিনি নেন যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কৃষিতে বিপ্লব ঘটে তার খাল খনন কর্মসূচি, উচ্চফলনশীল বীজের আমদানি এবং সার ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে। শিল্পে তিন শিফটে উৎপাদন শুরু হয়, কর্মসংস্থান বাড়ে, নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়, দেশ তখন এক কর্মযজ্ঞে মেতে ওঠে।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবুও তার দর্শন, তার আদর্শ আজও বেঁচে আছে। তার প্রদত্ত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন কখনো পরাজিত হয়নি, আর তাই বিএনপিও পরাজিত হয়নি, বারবার ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, আজ তারই উত্তরসূরি তারেক রহমানও সুদূর প্রবাস থেকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রামের ধারাবাহিকতা গড়ে উঠেছিল, সেটিই আজ অব্যাহত রেখেছেন তারেক রহমান জাতিকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছেন।

তিনি বলেন, সর্বশেষে আবারও বলি ৭ নভেম্বর আমাদের রাজনৈতিক ও জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। আমরা এ দিনটিকে স্মরণ করি, কারণ এর মধ্য দিয়েই জেগে ওঠে জাতির চেতনা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেই দর্শনকে সামনে নিয়েই আমরা এগিয়ে যাবে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের পথে।

এই বিভাগের আরো খবর