
নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক মোঃ শহিদুল আলমের স্ত্রী মোছাঃ ফাতেমা খাতুনকে অজ্ঞান করে হত্যা করাসহ স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনার রহস্য উদঘটনের দাবী করেছেন নওগাঁ জেলা পুলিশ।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হাসিনা বেগম এবং লুটের স্বর্ণালংকার ক্রয়ের অভিযোগে ইমরান নামে এক জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
১৭ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ২৩ জুন নওগাঁ শহরের চুড়িপট্টি এলাকায় অজ্ঞাত এক নারী কৌশলে ফাতেমা খাতুনকে রিকশায় তুলে অজ্ঞান করে তাঁর পরনের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ জুন সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তে শহরের ৮০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৫ জুলাই নওহাটা এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে হাসিনা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন হাসিনা বেগম বাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে সাবেক অধ্যাপক শহিদুল আলম ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে ওষুধ কেনার অজুহাতে তাঁদের চুড়িপট্টি এলাকায় নিয়ে যান। এক পর্যায়ে অধ্যাপক শহিদুল আলম মিষ্টি কিনতে গেলে হাসিনা কৌশলে ফাতেমা খাতুনকে রিকশায় তুলে নিয়ে যান। রিকশায় ফাতেমা খাতুনকে জুসের সঙ্গে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করানো হয়। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁর শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করা হয়। পরে তাঁকে নওগাঁ শহরের ময়লাপট্টি এলাকার নদীর পাড়ের একটি বেঞ্চে ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।
পুলিশ জানায়, লুট করা স্বর্ণালংকার জোয়ারদার জুয়েলার্সের ব্যবসায়ী ইমরানের কাছে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন হাসিনা। পরে ইমরানকে গ্রেফতার করা হলে তিনি ওই স্বর্ণালংকার কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, হাসিনা বেগম একই কৌশলে শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে নওগাঁ শহর ও আশপাশের এলাকায় আরও কয়েকজন নারীর স্বর্ণালংকার ও টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ শহরে অজ্ঞান পার্টিসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ কঠোরভাবে দমন করতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।