1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার: রয়টার্স - আজকের কাগজ
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জনগণের জীবনমান উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরে, তা হবে ফাঁসির রায় কার্যকরের জন্য: নাহিদ ইসলাম মৌলভীবাজারে পাঁচ স্থানে ভেঙে গেছে বাঁধ হিলিতে পুলিশের অভিযানে চোর ও অগ্নিসংযোগকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ “গোমতীর পানি বাড়ছে শুনলেই বুকটা মুচড়িয়ে উঠে” তলিয়ে গেছে উপকূলী চরাঞ্চল ভাসমান মানুষের মাঝে ত্রাণ নিয়ে হাজির হলেন ইউএনও দ্রুত জুলাই জাদুঘর খুলে দেওয়া হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী সাতকানিয়া-বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে পানিবন্দি হাজারো মানুষ প্রাথমিকের বৃত্তির ফল ফাঁস করা সেই কর্মকর্তা বরখাস্ত ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার: রয়টার্স

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার: রয়টার্স

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬ ৮:০৮ পিএম
শেয়ার করুন

মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে প্রায় দুই বছরের নির্বাসন শেষে আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

শুক্রবার টেলিফোনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একঘণ্টার সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন। নির্বাসনে থাকা অবস্থায় এটাই শেখ হাসিনার প্রথম গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার। এর আগে তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের লিখিত প্রশ্নের জবাব দিলেও কোনও সাক্ষাৎকার দেননি।

সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিক জানান, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলা হতে পারে জেনেই তিনি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রয়টার্সকে প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এবং তার দল আওয়ামী লীগের সদস্যরা দুই বছর আগে দেশ ত্যাগ করেছিলেন। এখন তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে হাজির হতে চান।

তিনি আরও বলেন, আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চলছে। মৃত্যু যদি আসেই, তাহলে আমি চাই তা আমার নিজের মাটিতে আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা সমাহিত এবং যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন টানা চার মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছে বর্তমান বিএনপি সরকার।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, কর্তৃপক্ষ তাকে ফিরিয়ে নিতে চায় এবং এ জন্য ভারতকে বারবার চিঠি দিচ্ছে। তবে তিনি নিজেই দেশে ফিরে যাবেন। তার এই প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনা দেশে ফেরার একটি সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করলেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, শুধু তিনি নন, নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতা আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও রয়েছেন, যিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত।

অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে আছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেকে আত্মগোপনে আছেন। তাই আমি বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরছি। একদিন তোমরাও সবাই ফিরে এসো। আমরা সবাই একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করবো।

তবে তিনি দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ, কখন আত্মসমর্পণ করবেন বা কোন আদালতে করবেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি। তিনি বলেন, ‘আমি বিচারব্যবস্থায় বিশ্বাস করি। বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে মানুষ বুঝতে পারবে আদালত কতটা প্রহসনমূলক। আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।’কারাভোগ নিয়ে শেখ হাসিনা উদ্বিগ্ন নন বলেও জানান। অতীতে একাধিকবার গ্রেফতার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় এবং ২০০৭ সালে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি কারাবন্দি হয়েছিলেন। পরে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়ার কারণ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তার বাসভবনের দিকে জনতা অগ্রসর হলে প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি দেশ ছাড়েন।

সরকারে থাকার সময় আওয়ামী লীগের ভুল হয়ে থাকতে পারে- এধরনের মন্তব্য করলেও কোনো ধরনের দায় স্বীকার করেননি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কোনও সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতেই পারে। কোনও সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু একটি সরকারের ভালো-মন্দ বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচার আমি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা জানান, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তিনি অনলাইনে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন নিয়ে বৈঠক করেছেন।

তিনি বলেন, তারা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। হয়তো আমি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবো না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন স্থগিত করা হবে? যদি আমরা খারাপ করে থাকি, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত জনগণই নিক।

উল্লেখ্য, গত বছরের (২০২৫ সালের) নভেম্বরে গণঅভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনায় শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।

এদিকে, আইন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, শেখ হাসিনার ফিরে আসা বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, ফলে তার বাংলাদেশে আসায় বাধা আছে। তিনি ভারতে যাওয়ার সময় তার কাছে কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট ছিল এবং সেটি পরে বাতিল হওয়ায় তার কাছে কোনো ভ্যালিড পাসপোর্ট নেই। ফলে সরকারের কাছ থেকে ট্রাভেল পাস না পেলে তার স্বেচ্ছায় ফেরা কঠিন হতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর