
১৪ বছরের কিশোর সন্তান বাবা মায়ের কোলে ফিরে আসবে বলেই অপেক্ষায় ছিল স্বজনরা। কিন্তু ভ্যানচালক কিশোর সন্তানকে শেষবারের মতো দেখার সৌভাগ্য হলো না বাবা-মায়ের। জীবিত সন্তানকে যেমন ফিরে পেলনা, তেমনি পেলো না সন্তানের মরদেহ।জঙ্গলে শুধু কিশোর সন্তানের দেহাবশেষের বিভিন্ন অংশের হাড় ও মাথার খুলি ছিল। সন্তানের এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবার।
যে সন্তানটিকে ছোটবেলা থেকে পরম মাত্র ১৩ বছরে সংসারের অভাব ঘোচাতে একটি অটোভ্যান চালিয়ে অর্থ উপার্জন করতেন। তার মনে ছিল হাজারো স্বপ্ন ।কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস ঘাতকরা হত্যা করে লাশ ফেলে দিল আন্দির গহীন জঙ্গলে।
উল্লেখ্য টাঙ্গাইলের সখীপুরে অটোভ্যানসহ নিখোঁজের ২৪ দিন পর নিহত সবুজের মাথার খুলি, হাড়গোড়সহ পরনের পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার আন্দি এলাকার একটি শালবনের ভেতর থেকে এসব দেহাবশেষ উদ্ধার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) টাঙ্গাইল।সখীপুর থানার ওসি মুরাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সবুজ পৌরসভার মিলপাড় এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা ছেলের পোশাক ও জুতা দেখে তার লাশ শনাক্ত করে পরিবার । এ সময় তাঁরা ছেলেকে হত্যার অভিযোগ তুলে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করে ফাঁসির দাবি জানান।
স্বজনরা জানায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় । অনেক খোঁজাখুঁজির পর ২৭ সেপ্টেম্বর সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তাঁর বাবা। একই দিন গোপালপুর উপজেলার কালীবাড়ী বাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অটোভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সবুজের অটোভ্যান গাড়িটি উদ্ধার হলেও সবুজের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সকলের মাঝে চরম ক্ষোভ, হতাশা ও সন্দেহ হয়। সবুজকে খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলেও গত ২৯ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন সবুজের বাবা-মা। ওই সময় তারা পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরবর্তীতে সখীপুর ও গোপালপুর থানা-পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নামে এসআরবি। গত ১৯ অক্টোবর দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল এলাকা থেকে মো. হাবিবুর রহমান (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি। তিনি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মাটিয়ারগুন গ্রামের হানিফ উদ্দিনের ছেলে। গ্রেপ্তার হাবিবুরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার সখীপুরের আন্দি এলাকার শালবনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে জঙ্গলের ভেতর থেকে কিশোর সবুজের হাড়গোড় ও ব্যবহৃত পোশাক উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান (৩৪) ও শাহীন (৩০) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এর আগে এ ঘটনায় আরো দুজনকে আটক করা হয়েছিল আটককৃত সেই দুজনের তথ্যের ভিত্তিতেই এই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে কিশোর সবুজকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে এবং আইনি ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।