
ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিরোধী জোটই বিজয়ী হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিদায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ও ‘বি-ইয়াহাদ’ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নতুন সরকার গঠনের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। লাপিদ বলেন, এবার সরাসরি নকআউট বিজয় না হলেও পয়েন্টের বিচারে নেতানিয়াহুবিরোধী জোটই জয়লাভ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় ইয়ার লাপিদ স্বীকার করেন যে নির্বাচনে তাদের সমর্থকরা স্পষ্ট ও তাৎক্ষণিক জয় চেয়েছিলেন, কিন্তু ফলাফল শেষ পর্যন্ত বেশ জটিল হয়েছে। তবুও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক মহাজোটের আসন যেভাবে ধ্বসে পড়েছে, তাতে স্পষ্ট যে তার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই। এই নির্বাচনে ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে মাত্র ৫৩টি আসন। আবার এই ৫৩টি আসনের মধ্যে ১৩টি আসন এসেছে অতি-অর্থোডক্স ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডায়িজম’ ও ‘শাস’ দলের কাছ থেকে, যারা নিজেদের অ-জায়নবাদী দল মনে করে। ফলে নেতানিয়াহুর হাতে মূলত মাত্র ৪০টি আসন রয়েছে, যা দিয়ে কোনোভাবেই ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী জোটকে নতুন সরকার গঠনের জন্য এখন পর্দা আড়ালে গভীর আলোচনা শুরু করতে হচ্ছে। লাপিদ জানান, ‘ইয়াশার’ প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে তারা একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, তবে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠিন এবং সফলতার কোনো সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টিও নেই। তাই প্রক্রিয়াটি সুসম্পন্ন করতে তিনি দেশবাসীর কাছে ধৈর্য ধারণের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকার গঠনের আলোচনার এই সময়টিকে ঘড়ির কারিগরদের কাজের সঙ্গে তুলনা করে লাপিদ উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন প্রচারের মতো এই সমঝোতা ক্যামেরার সামনে বা কোলাহলের মধ্য দিয়ে হয় না। এটি বন্ধ দরজার আড়ালে অত্যন্ত ধীরগতিতে, সূক্ষ্মতা ও নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে করতে হয়। কোনো চটকদার শিরোনাম বা তথ্য ফাঁসের কারণে যাতে এই গোপন আলোচনা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্যই বর্তমানে নীরবতা বজায় রাখা হচ্ছে এবং ব্যাকস্টেজেই মূল আলাপ-আলোচনা এগিয়ে চলেছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল