1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
পাহাড়ে সুরক্ষিত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি ট্রাম্পের - আজকের কাগজ
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
পাহাড়ে সুরক্ষিত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি ট্রাম্পের বক্তব্যের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ, বললেন—ফিজিকস পরীক্ষা আবারও নেওয়া হবে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নপত্রে ত্রুটি: চার জনকে শোকজ সুখবর পেলেন শাহরুখ খান ও গৌরী প্রেসিডেন্টের অনুরোধে পদত্যাগ করলেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ না চালানোর আহ্বান হাসনাতের হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৭ শিশুর, আক্রান্ত ৯৯০ তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর দুই দফায় আরও কমলো স্বর্ণের দাম স্পেনকে বোতলবন্দী করতে ফ্রান্সের কৌশলও চূড়ান্ত!

পাহাড়ে সুরক্ষিত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩০ পিএম
শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাহাড়ের গভীরে নির্মিত পারমাণবিক স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি দিয়েছেন। সাম্প্রতিক দুই দফার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় অক্ষত থাকা এই স্থাপনাকে ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর একটি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার (১৩ জুলাই) ফক্স নিউজের মার্কিন রক্ষণশীল উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই হুমকি দেন।

হিউইট তাকে মনে করিয়ে দেন যে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র গত বছর অপারেশন মিডনাইট হ্যামার-এর অংশ হিসেবে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা; নাতাঞ্জ, ফোরডো এবং ইসফাহানে হামলা চালিয়েছিল, কিন্তু অপারেশন রাইজিং লায়ন বা অপারেশন রোয়ারিং লায়ন কোনোটির সময়েই পিক্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনাটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্স একটি বড় ধরনের হামলার উপযুক্ত লক্ষ্য হতে পারে। ইরানকে প্রস্তুত থাকতে বলুন। সম্ভবত খুব শিগগিরই সেখানে হামলা হবে।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের জবাবে ইরানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই স্থাপনায় হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং এর মূল্য দিতে হবে মার্কিন সেনা ও আঞ্চলিক মিত্রদের।পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। ২০২০ সালে পাহাড়ের গভীরে এ স্থাপনার নির্মাণকাজ শুরু হয়।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সেখানে এখনো নির্মাণকাজ চলছে। পশ্চিম দিকের সুড়ঙ্গপথে যানবাহনের চলাচল এবং প্রবেশমুখ আরও শক্তিশালী করার কাজের প্রমাণ মিলেছে।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (আইএসআইএস) সম্প্রতি জুন মাসের শেষের দিকের স্যাটেলাইট চিত্রের একটি বিশদ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে, যা থেকে দেখা যায় যে পাহাড়টিতে পারমাণবিক কার্যক্রম চলছে।

ইনস্টিটিউটটির মতে, পশ্চিম টানেলের প্রবেশপথগুলোর দিকে যাওয়ার রাস্তাগুলোতে যানবাহন চলাচল দেখা যাচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে টানেল কমপ্লেক্সের ভেতরে কাজ এবং প্রবেশপথগুলো শক্তিশালী করার কাজ এখনও চলছে।

আইএসআইএস উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী তেহরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, পিক্যাক্স মাউন্টেনসহ যেকোনো পারমাণবিক-সম্পর্কিত স্থাপনায় নির্মাণকাজ করা হলে তা চুক্তিটির লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, স্থাপনাটি মাটির প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মিটার নিচে নির্মিত হয়েছে। এই গভীরতা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমার সক্ষমতারও বাইরে হতে পারে।

মার্কিন বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তাদের ব্যবহৃত সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা সর্বোচ্চ প্রায় ৬০ মিটার গভীর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জাতীয় নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নীতিবিষয়ক উপপ্রধান ব্লেইজ মিশটাল বলেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ফোরদোর চেয়েও গভীর, বড় এবং অধিক সুরক্ষিত। সামরিক মানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের চূড়ান্ত ধাপের জন্য এটি ব্যবহার করা হতে পারে।

ইরান শুরুতে দাবি করেছিল, স্থাপনাটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ যন্ত্র তৈরির জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে, সমৃদ্ধকরণের জন্য নয়। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের কখনোই সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এ কারণে অনেক বিশেষজ্ঞের সন্দেহ, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদনের শেষ ধাপটি নিরাপদে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যেই স্থাপনাটি তৈরি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছানো তুলনামূলক সহজ ও দ্রুত।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শুধু বিমান হামলায় পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ধ্বংস করা সম্ভব নাও হতে পারে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযান চালিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে বিস্ফোরক স্থাপন করতে হতে পারে।

তবে আরেকটি মত হলো, সেটি যথেষ্ট নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণতন্ত্র প্রতিরক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রধান মার্ক ডুবোভিটজের মতে, স্থাপনাটিকে দীর্ঘমেয়াদে অকার্যকর করতে এমন কোনো রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করতে হতে পারে, যাতে অন্তত ১০০ বছর সেখানে মানুষের প্রবেশ অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এই বিভাগের আরো খবর