
বিশ্বকাপ ফাইনালে জয়ের পর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের আচরণকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ফাইনাল শেষে ঘটে যাওয়া সেই অনভিপ্রেত ঘটনাগুলোকে তিনি ‘অসহনীয় ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেন তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে। ঠিক সেই মুহূর্তে আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মোলিনা এবং লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের রদ্রি ও এরিক গার্সিয়ার ওপর চড়াও হন। এছাড়া পারেদেস স্পেনের তরুণ তারকা গাভির সঙ্গেও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই সমস্ত আগ্রাসী আচরণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন তুমুল আলোচনা চলছে।
এ ঘটনায় মুখ খুলেছেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। স্বদেশি টেলিভিশনকে এক স্বাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘সে সময় আমি বিষয়টি বুঝতে পারিনি। আমি তখন উদযাপন করছিলাম এবং সতীর্থদের জড়িয়ে ধরছিলাম।’ বিশ্বজয়ী কোচ ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘তবে যাই হোক না কেন, এটি সম্পূর্ণ অসহনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের আচরণ কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।’
আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মানের কথা স্বীকার করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ওরা এমন উচ্চমানের খেলোয়াড়, যাদের আমি ম্যাচের আগের দিনগুলোতেও প্রশংসা করেছি এবং এখনো করি। তাদের একজন দুর্দান্ত কোচ আছে। নিশ্চয়ই এমন প্রতিক্রিয়া দেখে তারাও আমাদের মতোই খারাপ বোধ করেছে।’
এই ধরনের ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’ ও ‘উসকানি’র মুখেও নিজের দলের খেলোয়াড়রা যে সংযম দেখিয়েছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন স্প্যানিশ কোচ। তার মতে, স্পেনের খেলোয়াড়দের পরিপক্বতার কারণে পরিস্থিতি আরও বড় কোনো সংঘাতে রূপ নেয়নি।
ঘটনার সমস্ত দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফিফা এখনো আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কোড লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।