1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
ফ্লাইদুবাইয়ের আকাশে শ্বাসরুদ্ধকর ৩০ সেকেন্ড: যেভাবে রক্ষা পেলেন ১৭৪ যাত্রী - আজকের কাগজ
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
দশমিনায় অগ্নিকাণ্ডে তিন ভাইয়ের ঘর পুড়ে ছাই ফ্লাইদুবাইয়ের আকাশে শ্বাসরুদ্ধকর ৩০ সেকেন্ড: যেভাবে রক্ষা পেলেন ১৭৪ যাত্রী রাজবাড়ীতে মানবপাচারের দায়ে পলাতক ২ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের দিলীপ কুমারকে চকরিয়ায় বাড়িতে সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মালামাল লুট বাবর আজমকে বিদেশে একাডেমিতে পাঠানোর পরামর্শ মোহাম্মদ ইউসুফের এনসিপির স্পোর্টস উইংয়ে যোগ দিচ্ছেন নাজমুল আবেদীন ও এম নাজমুল ইসলাম এইচএসসি পরীক্ষায় চরম বিপর্যয়: শিক্ষকদের ফুল দিয়ে ছাত্রদলের অভিনব প্রতিবাদ মিরপুরে পোশাক শ্রমিক বিক্ষোভ: সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফ্লোরিডায় বিধ্বস্ত ব্যক্তিগত বিমান: পাইলটের শেষ বার্তা ও মর্মান্তিক পরিণতি

ফ্লাইদুবাইয়ের আকাশে শ্বাসরুদ্ধকর ৩০ সেকেন্ড: যেভাবে রক্ষা পেলেন ১৭৪ যাত্রী

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ৪:০৫ পিএম
শেয়ার করুন

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ওমানের আকাশসীমায় থাকাকালীন ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটির ককপিটে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের ককপিটে মহাহট্টগোল। রক্তাক্ত শরীরে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচানো কে এই পাইলট স্মিথ।

হামলাকারী সহ-পাইলট উড়োজাহাজটি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ক্র্যাশ এক্স ব্যবহার করে প্রধান পাইলট স্মিথ মছারের ওপর আক্রমণ করেন। এই আকস্মিক হামলায় বিমানটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়, যা যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় ভারতীয় পাইলট স্মিথ মছারের সাহসিকতা দেশে–বিদেশে প্রশংসায় ভেসেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অসীম সাহসিকতা দেখানোয় তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় সহ–পাইলট ‘ক্র্যাশ এক্স’ (ককপিটে রাখা কুঠারের মতো সরঞ্জাম) দিয়ে হঠাৎ স্মিথ মছারের ওপর হামলা করেন। পাইলট, মিস্ত্রি, দন্তচিকিৎসক—কার কার চেষ্টায় রক্ষা পেল ইসরায়েলগামী উড়োজাহাজটি।

সাহসী ভূমিকা ও জরুরি অবতরণ

  • আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও স্মিথ মছার অসীম সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
  • ছুটিতে থাকা দুই পাইলট, ফিজির হেনসন স্টিভেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রোয়ান টুথ দ্রুত ককপিটে ছুটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন।
  • যাত্রীদের মধ্য থেকে ইয়ানিভ হায়ুন নামক একজন ব্যক্তি হামলাকারীকে প্রতিহত করতে এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে সহায়তা করেন।
  • উড়োজাহাজটিকে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন তাঁরা।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলাকারী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি কৌঁসুলিদের মতে, এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাটি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তথ্যমতে, হামলাকারী ওমানের একজন নাগরিক, যিনি চরমপন্থী মতাদর্শ ধারণ করতেন। তবে এই হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো রহস্যের আবরণে ঢাকা রয়েছে। যদিও তাঁর এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানা যায়নি।

স্মৃতিচারণ ও সম্মাননা

আবুধাবির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্মিথ মছার বর্ণনা দেন যে, প্রথম আঘাত পাওয়ার সময় তিনি যান্ত্রিক ত্রুটি ভেবেছিলেন, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই বুঝতে পারেন তিনি হামলার শিকার হয়েছেন। অক্টোবরের শুরুর দিকে আবুধাবির একটি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে পাইলট স্মিথ মছার বলেন, প্রথম আঘাত পাওয়ার পর তিনি ভেবেছিলেন, উড়োজাহাজের কাঠামোয় হয়তো বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটেছে। তিনি ‘কট্টর ইসলামপন্থী’ মতাদর্শে বিশ্বাসী।

নেতানিয়াহুর মুখপাত্র জানান, মছার যখন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন, তখন রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মেঝেতে পড়ে ছিলেন।

ইয়ানিভ হায়ুন স্মৃতিচারণ করে বলেন, উড়োজাহাজটি রোলারকোস্টারের মতো নিচে নামছিল এবং তিনি স্টিয়ারিং কন্ট্রোল ধরে সেটি সোজা করার চেষ্টা করেছিলেন। আমি ইয়োক (বিমানের স্টিয়ারিং কন্ট্রোল) টেনে ধরি। ‘মনে হচ্ছিল উড়োজাহাজ না, রোলারকোস্টার, হুড়মুড়িয়ে নিচে নামছিল’।

সুস্থ হওয়ার পর মছার জানান, শারীরিক আঘাত থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে তাঁর প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে।

এই বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান পাইলট হেনসন, রোয়ান এবং মছারকে দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত করেছেন। टाइम्स অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে উড়োজাহাজটি ফেরত আনার সময়ও ছুটিতে থাকা হেনসন ও রোয়ান পাইলটের দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য যে, রোয়ান ২০২৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার এয়ারলিংকে কাজ করেছেন এবং হেনসন এর আগে ফিজি এয়ারওয়েজের পাইলট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে উড়োজাহাজটিতে থাকা আরও দুজন পাইলট উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণে নেন। এবার ওই দুই পাইলটের নামও প্রকাশ্যে এসেছে।

এই বিভাগের আরো খবর