
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির অকাল মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য। বাবা কে এম এনায়েতুল করিম জানিয়েছেন, তাহসিফ দীর্ঘদিন ধরে কোনো একটি বিষয় নিয়ে বেশ আতঙ্কিত ছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি ভীত ছিলেন বা তার উদ্বেগের কারণ কী ছিল, তা পরিবারের কারো পক্ষেই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সারাদিন মায়ের সাথে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন তাহসিফ। বাবার জন্যও তিনি উপহার কিনেছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যার পরপরই দ্বীপ নামের পরিচিত এক বন্ধু বা ছোট ভাইয়ের ডাকে তিনি বাসা থেকে নিচে নেমে যান। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি মায়ের কাছে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠিয়েছিলেন যে, তিনি বাসায় ফিরছেন। কিন্তু এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর পরদিন বুধবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে পুলিশ তার নিথর দেহ উদ্ধার করে। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার আগের ঘটনা বর্ণনা করে এনায়েতুল করিম বলেন, ‘যেদিনের ঘটনা ২৭ তারিখ সন্ধ্যার পরে, সারাদিন আমার মায়ের সঙ্গে ছিল। এনায়েতুল করিম বলেন, ‘এটা হলো রাজাবাড়ী ঘাট, আর কিপাড়া দিয়ে যেতে হয়। শপিং-টপিং করেছে, আমার জন্যও কিছু শপিং করেছে। এরপর থেকে তার আর লোকেট করতে পারিনি।’।
রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে পরিবারের সাথে থাকতেন তাহসিফ। বাবা এনায়েতুল করিম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর দ্বীপ নিচে এসে তাকে ডেকে নেয়। সেই শেষবার তাকে বের হতে দেখেছেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর অনেকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ব্যর্থ হন তারা। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ যে বার্তাটি দিয়েছিলেন, তাতেও তিনি দ্রুত বাসায় ফেরার কথা লিখেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে ওর মা অনেকবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ও ফেরে নাই এবং রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সে মেসেজ দিয়েছে যে সে আসছে, আম্মু আমি আসছি—এরম গোছের একটা ব্যস্ত মেসেজ দিয়েছে।
ছেলের খোঁজে বুধবার দুপুরে উত্তরা থানায় যোগাযোগ করেন তার বাবা। সেখানে কোনো অশুভ সংবাদ না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে বিকেলে উত্তরখান থানার ওসির সাথে কথোপকথনের পর তার ছেলের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি। পরিবারের ভাষ্যমতে, রাজাবাড়ী ঘাটের ওই এলাকায় তাহসিফের যাওয়ার কোনো কারণ ছিল না এবং সাধারণত তিনি সেখানে যাতায়াত করতেন না।
এ ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে আরও একটি রহস্য। তাহসিফ যে মোটরসাইকেলটি নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, এখনো সেটির কোনো হদিস মেলেনি। এ শোকাবহ ঘটনায় পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম এবং তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে মৃত্যুর আসল কারণ এখনই বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পুলিশি তদন্তের ফলাফলের পরই পুরো ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।