1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
বিলের তদবির ঘিরে ছাত্রদল নেতা কতৃক ববি প্রকৌশলীর উপর হামলা - আজকের কাগজ
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সচিব পর্যায়ে বড় রদবদল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১১ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি পদায়ন দাউদকান্দিতে ৫ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, পরোয়ানায় আটক আরও ২ শারদীয়া দূর্গোৎসবে মহাদেবপুরে এমপি’র শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ সরকার বিরোধী দলের সহযোগিত নিতে ব্যর্থ হয়েছে: জামায়াত আমির মালিকসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এক সচিবালয় যাচ্ছে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন কুড়িগ্রামে মাছ কিনতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় মৃত্যু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ‘নিরাপত্তা সমন্বয় সভা’ অনুষ্ঠিত পাশাপাশি তিন কবরে স্ত্রী-সন্তান, শোকে পাথর প্রভাষক!

বিলের তদবির ঘিরে ছাত্রদল নেতা কতৃক ববি প্রকৌশলীর উপর হামলা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬ ৯:৫৯ পিএম
শেয়ার করুন

‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. মামুন অর রশিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ১ নম্বর সহ-সভাপতি মিনহাজুল ইসলামের (মিনহাজ সাগর) বিরুদ্ধে।
‎
‎রোববার (১৭ মে) বিকেলে সহকারী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢুকে তাকে চেয়ার ছুড়ে মারা হয় বলে জানা গেছে। মূলত একটি ঠিকাদারি কাজের বিল দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার তদবিরকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে।
‎
‎প্রকৌশল দপ্তর ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে সাইফুল মুন্সি নামে এক ঠিকাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিজয় চব্বিশ হল’ প্রভোস্ট ও অজুখানার ইলেকট্রিক লাইনের কাজ সম্পন্ন করেন। সেই কাজের বিল উত্তোলনের তদবির করতে আজ বিকেলে ঠিকাদার সাইফুলকে সাথে নিয়ে সহকারী প্রকৌশলী মামুনের কক্ষে যান ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল। সেখানে গিয়ে তিনি বিল পেতে কেন দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রকৌশলীর কাছে কৈফিয়ত তলব করেন এবং দ্রুত বিল ছাড় করার জন্য চাপ দেন।
‎
‎এ সময় সহকারী প্রকৌশলী মামুন জানান, বিলটি সরকারি নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী দেওয়া হবে। এই জবাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল কক্ষে থাকা একটি চেয়ার তুলে মামুনকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন।
‎
‎কক্ষে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক কর্মকর্তা ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম একটি বিলের বিষয়ে কথা বলতে প্রকৌশলী মামুনের রুমে আসেন। মামুন তাকে প্রধান দপ্তরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিলে ওই ছাত্রনেতা আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিলের কাজ শেষ করার আলটিমেটাম দেন। মামুন আবারও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে দপ্তরে কথা বলতে বললে, মিনহাজ একটি চেয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করতে যান। প্রথমে আমি সেটি ঠেকিয়ে দিলেও, পরক্ষণেই দরজার পাশে থাকা আরেকটি চেয়ার দিয়ে তিনি মামুনকে আঘাত করেন।”
‎
‎ভুক্তভোগী সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ বলেন, “ছাত্রদল সহ-সভাপতি মিনহাজ সাগর এক ঠিকাদারের বিলের তদবির নিয়ে এসে আজই বিল দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। আমি তাকে নিয়ম অনুযায়ী বিল প্রক্রিয়াকরণ হবে জানালে এবং দপ্তর প্রধানের সাথে কথা বলতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি আমাকে চেয়ার ছুড়ে মারেন এবং মিথ্যা দাবি করেন যে আমি নাকি তাকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেছি। যাওয়ার সময় তিনি আমাকে হুমকিও দিয়ে গেছেন। এই ঘটনার পর থেকে আমি কর্মস্থলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
‎
‎অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, “আমি ঠিকাদার সাইফুল মুন্সির বিলের বিষয়ে কথা বলতে প্রকৌশলী মামুনের রুমে গিয়েছিলাম এবং দ্রুত বিলটি দেওয়ার অনুরোধ করি। কিন্তু মামুন উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে আমার পরিচয় জানতে চান এবং বলেন ‘আমি কে?’। এমন আচরণে লজ্জিত হয়ে আমি কক্ষ থেকে বের হয়ে আসি। তাকে চেয়ার ছুড়ে মারার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
‎
‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার সাইফুল মুন্সি বলেন, “গত বছরের এপ্রিলে আমাকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ করানো হয়েছে। কিন্তু গত প্রায় ১৩ মাস ধরে বিলের জন্য এই লোকটা (প্রকৌশলী মামুন) আমাকে সকাল-বিকেল ঘোরাচ্ছেন। তার মিথ্যাচারের একটা সীমা থাকা উচিত, মিথ্যা বলতে বলতে তিনি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। বিল না দিয়ে তিনি আমাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রচণ্ড মানসিক নির্যাতন করছেন।”
‎তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে আরও দাবি করেন, “আমি আজ তার অফিসে যাওয়ার পর মামুন আমাকে বলেন—’আপনি মুরশিদ আবেদিনের কাছে গেছেন, আমার কাছে আসবেন না। আপনি রুম থেকে বের হোন।’ মিনহাজ সাগর আমার পরিচিত ছোট ভাই হওয়ায় সে আমার সাথেই সেখানে ছিল। তখন এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কিছুটা বাকবিতণ্ডা হয়, তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”‎
‎
‎এই বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মামুন অর রশিদ জানান, “আমি এখনো অফিশিয়ালি কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই বিভাগের আরো খবর