1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
বেইজিংয়ে ট্রাম্পের রাজকীয় অভ্যর্থনা, আলোচনার কেন্দ্রে বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতি - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ন

বেইজিংয়ে ট্রাম্পের রাজকীয় অভ্যর্থনা, আলোচনার কেন্দ্রে বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ ৭:০৪ পিএম
শেয়ার করুন

এক বর্ণাঢ্য ও সুপরিকল্পিত আয়োজনের মধ্য দিয়ে বেইজিংয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। বুধবার স্থানীয় সময় গোধূলি লগ্নে এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে নামার পর তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং সামরিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। ট্রাম্পের এই দুই দিনের সফরের মূল লক্ষ্য হলো চীনের বাজারকে মার্কিন ব্যবসার জন্য ‘উন্মুক্ত’ করা এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে টালমাটাল অভ্যন্তরীণ জনমতকে শান্ত করতে কিছু অর্থনৈতিক সাফল্য ছিনিয়ে আনা।

ট্রাম্পের এই সফরে সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন প্রযুক্তি জায়ান্ট এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং এবং টেসলার প্রধান ইলন মাস্কের মতো শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো চীনে তাদের শক্তিশালী এআই চিপ বিক্রির অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লিখেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অনুরোধ করবেন যেন এই ‘মেধাবী মানুষগুলো’ চীনে তাঁদের কারিশমা দেখানোর সুযোগ পান। এটিই হবে তাঁর সফরের প্রথম ও প্রধান দাবি।

ট্রাম্প বেইজিং পৌঁছানোর আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে তিন ঘণ্টা ধরে প্রাথমিক আলোচনা সেরেছেন মার্কিন বাণিজ্য আলোচক স্কট বেসেন্ট। চীনা ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেং-এর সাথে তাঁর এই আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে বেইজিং। দুই দেশই গত অক্টোবরে হওয়া শুল্ক বিরতি চুক্তিটি বজায় রাখতে আগ্রহী। এছাড়া বোয়িং বিমান, কৃষিপণ্য এবং জ্বালানি বিক্রির মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। বিনিময়ে বেইজিং চাইছে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ তৈরির যন্ত্রপাতির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক।

বাণিজ্য ছাড়াও আলোচনায় স্থান পাবে ইরান ও তাইওয়ান ইস্যু। মার্কিন প্রশাসন আশা করছে, তেহরানকে একটি শান্তি চুক্তিতে রাজি করাতে বেইজিং বড় ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, তাইওয়ানে ১৪ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ নিয়ে চীন তাদের তীব্র বিরোধিতা পুনরায় ব্যক্ত করেছে। আইনগতভাবে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সরঞ্জাম দিতে বাধ্য থাকলেও, এই বিষয়টি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের আলোচনায় ট্রাম্প কিছুটা দুর্বল অবস্থানে রয়েছেন। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং আসন্ন মিড-টার্ম নির্বাচনে হারার ভয়, অন্যদিকে আদালতের নির্দেশে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত হওয়া, সব মিলিয়ে ট্রাম্পের জন্য এই সফর থেকে বড় কোনো অর্জন অত্যন্ত জরুরি। বেইজিংভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উসাওয়া অ্যাডভাইজরির সিইও লিউ কিয়ান বলেন, চীনের চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই বৈঠকটি বেশি প্রয়োজন, যাতে তারা মার্কিন ভোটারদের দেখাতে পারে যে চুক্তি হচ্ছে এবং অর্থ আসছে।

গ্রেট হল অব দ্য পিপলে সংবর্ধনা, ৬০০ বছরের পুরনো টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শন এবং রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের মতো জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত রসায়ন আবারও পরীক্ষার মুখে পড়বে। বেইজিংয়ের সাধারণ মানুষ এই সফরকে আশা ও সন্দেহের মিশেলে দেখলেও, বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন এই দুই নেতার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

এই বিভাগের আরো খবর