
রাজধানী মিরপুরে অটোরিকশার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের পর তা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে অটোরিকশা চালকরা। শনিবার ১৮ মে বিকেল ৫ টার দিকে দারুসসালাম জোনের ট্রাফিক পুলিশ ও শাহআলী থানা পুলিশ যৌথভাবে অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযানে নামার পর এই ঘটনা ঘটে। এ সময়ে রাইনখোলা মোড়ের সড়ক দিয়ে চলাচল করার সময়ে আটক করা হয় ২৫/৩০ টি অবৈধ অটোরিকশা। অবৈধ এই অটোরিকশা আটকের পর পুলিশ ও চালকদের মাঝে ব্যাপক হট্টগোল এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
আটকৃত রিকশার মালিক ও চালকরা রাইন খোলা মোড়ে জড়ো হয়ে রাস্তাঘাট সহ গাড়ি চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়। তখন পুর রাইনখোলা মোড়ে যানজট সৃষ্টি হয় ব্যাপক আকারে। পরে দারুসসালাম জোনের ট্রাফিক পুলিশ ও শাহআলী থানা পুলিশ সদস্যরা যৌথ ভাবে মিলে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।অভিযোগ উঠেছে, অটোরিকশা সিন্ডিকেটের কিছু কার্ড ব্যবসায়ী দালালদের উস্কানিতেই আটক কৃত রিকশা পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে অটো চালকরা। পরে অটোরিকশা মালিক ও পুলিশের হট্টগোল বেধে গেলে উত্তেজনার সুযোগেই অটোচালকরা কিছু রিকশা নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

জানা গেছে, গত ১৫ মে বুধবার যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অটোরিকশা বন্ধের নির্দেশ দেন। এর পরেই শনিবার ১৮ মে দারুসসালাম জোনের ট্রাফিক পুলিশ ও শাহআলী থানা পুলিশ এক জোট হয়ে অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযানে নামে। তবে অটোরিকশা চালকরা দাবি করে বলেন, অটোরিকশা তৈরীতে যে সরঞ্জামাদী লাগে তা (ইনপোর্ট) আমদানি করা বন্ধ হোক ! আমদানি বন্ধ করা হলে এমনিতেই অটোরিকশা বন্ধ হবে। অটোচালকরা বলছেন, অটোর সরঞ্জামাদি ব্যাটারি, মটর এসব আমদানি বন্ধ না করে অটোরিকশা বন্ধ করাটা অযৌক্তিক বলে মনে করছেন তারা।
এ ঘটনার বিষয় দারুসসালাম জোনের ট্রাফিক পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান “আজকের কাগজকে” বলেন, “অবৈধ অটোরিকশা বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে”। “অবৈধ অটোরিকশা বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে মাননিয় মন্ত্রী মহাদয়ের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আমরা তা পালন করছি”। “এ ছাড়াও ট্রাফিক পুলিশের এটি একটি নিয়মিত অভিযান বলা যেতে পারে”। “পাশাপাশি অবৈধ এই অটোরিকশা বন্ধ করতে ট্রাফিক পুলিশের যা করণীয় দরকার স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগীতা নিয়ে আমরা তা করব বলে জানান তিনি।

“অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধ অটোরিকশা যেনো কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ সকল অবৈধ অটোরিকশার নেপথ্যে টোকেন দিয়ে প্রতিমাসে চলছে কোটি টাকার চাঁদাবাজি। আবার অটোরিকশা চালকরা চাঁদা দিতে বা কার্ড নিতে অস্বীকার করলেই তাদের হোতে হয় নির্যাতনের শিকার। এছাড়াও রেকার বিল ডাম্পিং বিলের জরিমানা তো আছেই। তা ছাড়াও অটোরিকশা চালকদের প্রতিমাসে নিতে হয় চাঁদাবাজদের কাছ থেকে লোঘো ব্যবহার করা টোকেন কার্ড।

জানা গেছে, যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অটোরিকশা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়ার পরই ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় মিরপুরে। অবৈধ হলেও নির্দেশনা আশার পরেও প্রধান সড়ক গুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। ট্রাফিক পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে সেই সুযোগে অপ্রাপ্ত চালকের বেপরোয়া চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার প্রবণতা দিনদিন বাড়ছে। দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরন করছে অনেকে নয়তো চিকিৎসা ব্যায় করে শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে পথের ভিকাড়ি হচ্ছেন। আবার এই অবৈধ অটোরিকশার কারণে প্রতিনিয়ত সড়কের অলিগলিসহ যানজট লেগে থাকে মিরপুরে সবসময়। তবে সচেতনমহলের দাবী ঝুঁকিপূর্ণ অটোরিকশা বন্ধ হোক কারন চার্জ বাবদ এ খাঁতে পচুর পরিমান বিদ্যুৎ অপচয় হয়। যা থেকে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে এ কারনে অটোরিকশা প্রতি সাধারণ মানুষ অনেকটাই বিরক্ত ও অনিহা বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সেই সাথে রিকশা শ্রমিকদের জন্য একটি নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করা হোক এমনটাই প্রত্যাশা করেন দুর্ঘটনার শিকার ভুক্তভোগীরা।