
বাসা বাড়িতে প্রায়ই অনেক জায়গাতে গ্যাস থাকছে না ! আমরা বড়রা খাবার না খেয়ে অনেক সময় কষ্ট করে থাকতে পারলেও ঘরের বাচ্চারা তা পারছে না। বাধ্য হয়ে তাদের বাইরের খাবার খাওয়াতে হচ্ছে ! এতে দেখা যাচ্ছে, বাচ্চাদের পেটের সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু কী করবো, এ ছাড়া তো আর উপায়ও নেই। কথাগুলো বলছিলেন কাঁঠালবাগান এলাকার গৃহবধূ সানজিদা ইয়াসমিন। একই সুরে কথা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবিহা সুলতানার মুখেও। তিনি বলেন, আমরা যারা মিরপুরে থাকি, তাদের কাছে গ্যাস না থাকাটা এখন অনেকটা নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এ কারণে অতিরিক্ত সিলিন্ডার কিনে রেখেছি। গ্যাস না থাকলেই সেটা ব্যবহার করি।
বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সৈকত আহমেদ। তিনি থাকেন কল্যাণপুর এলাকায়।হতাশাজড়িত কণ্ঠে এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রায়ই গ্যাস থাকছে না। কতক্ষণ হোটেল থেকে কিনে খাওয়া যায়? সে কারণে ইলেকট্রিক কুকার কিনেছি। গ্যাসের সংকট দেখা দিলেই তাতে রান্না করছি। এতে অবশ্য বিদ্যুৎ বিল কিছুটা হলেও বেশি আসে। কিন্তু কিছু করার নেই। মোহাম্মদপুরে বাসা-বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন রোজিনা আক্তার। তিনি বলেন, সকালে বাসা-বাড়িতে কাজ করে এসে স্বামী-সন্তানের জন্য দুপুরের খাবার প্রস্তুত করতে সব আয়োজন করেছি। কিন্তু গ্যাস সংকটে চুলা জ্বালাতে পারছি না। একটু পরেই মেয়ে স্কুল থেকে আসবে। এ অবস্থায় বাইরে থেকে খাবার কিনে আনা ছাড়া আর উপায় নেই। টানাটানির সংসারে এটা রীতিমতো বাড়তি এক বিড়ম্বনা।
বৃহস্পতিবার বার (৩ সেপ্টেম্বর ) রাজধানীর মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, মিরপুর, শেওড়াপাড়া, তালতল, কাঁঠালবাগান, ১১ নাম্বার, দুয়ারীপাড়া সহ বেশিরভাগ এলাকা ঘুরে ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গ্রাহকরা বলছেন, প্রতিমাসে গ্যাস বিলও দিতে হচ্ছে, তার পরেও আবার বাড়তি দামে সিলিন্ডারও কিনতে হচ্ছে। এদিকে হঠাৎ করে সিলিন্ডারের সংকট ও লাগামছাড়া দামে এখন বাইরে থেকে খাবার কিনে এনেও খেতে হচ্ছে তাদের।
স্বল্প সরবরাহ: শীতকালে গ্যাসের চাপ একটু কম থাকে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা বলেন, দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে। এ ছাড়া সম্প্রতি এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। সে কারণে সংকট তৈরি হয়। জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ বেশ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে। যুদ্ধের কারণে বাহির থেকে এলএনজি খুব একটা আসছে না। আর বর্তমানে বৈশ্বিক বৈষম্যের কারণে একটু কম আনা হচ্ছে। যার জন্য হয়তো প্রেশারটা একটু কম পাচ্ছে। যদি এলএনজি ঠিকমতো আসতে পারে, তাহলে আপনার প্রেশার ঠিকমতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে, আশা রাখি।’এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন না বাড়ালে ভবিষ্যতে গ্যাস সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর ফলে বাসাবাড়িতে ভোগান্তি দিনের বেশিরভাগ সময় চুলা জ্বলে না অথবা এতটাই কম চাপ থাকে যে রান্না করা সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে অনেকেই বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা বা বাইরে থেকে খাবার কিনছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, কৃত্রিমভাবে গ্যাস সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর কোনো অপচেষ্টা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে সরকারকে।