
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গবেষণা সেলের উদ্যোগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শিক্ষকবৃন্দের দাখিলকৃত গবেষণা প্রকল্প প্রস্তাবনা রিভিউ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ সময় জবি শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপের কথা বলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রমটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
আগামী ৯, ১০, ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ চার দিনব্যাপী এ কার্যক্রম চলবে। এ সময়ে জমাকৃত গবেষণা প্রস্তাবনাগুলো মান, প্রাসঙ্গিকতা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির সম্ভাবনা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে রিভিউ কমিটির চিফ রিভিউয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম এবং আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।
এছাড়াও অনুষদভিত্তিক রিভিউ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. পরিমল বালা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সানজিদা ফারহানা, আইন অনুষদের ডিন খ্রীষ্টিন রিচার্ডসন, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মল্লিক আকরাম হোসেন এবং চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাঃ আলপ্তগীন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গবেষণা সেলের পরিচালক ও রিভিউ কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।
রিভিউ কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক জানান, এই কার্যক্রমে শুধু জবির শিক্ষক নয়, বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দও রিভিউয়ার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন।
জবি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গবেষণা রিভিউ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার মান আরও উন্নত হবে। শিক্ষার্থীরা জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ হবে এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠান হিসেবে জবি আরও অগ্রসর হবে।”
জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “শিক্ষকবৃন্দের গবেষণামূলক কাজগুলো গুণগত মানসম্পন্ন করতে হলে রিভিউ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলতে হবে।”
পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত করার বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করে বলেন, “গবেষণা সহকারী হিসেবে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে তারা একদিকে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে, অন্যদিকে কিছু আর্থিক সুবিধাও পাবে। পাশাপাশি তাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গবেষণা প্রকল্পগুলোকে আরও আকর্ষণীয় ও মানসম্মত করে তুলবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ রিভিউ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানসম্মত গবেষণা নিশ্চিত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে।