
দীর্ঘদিনের সাজানো গোছানো সংসারের স্বামী সন্তান ফেলে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে কলেজ পড়ুয়া ভাগ্নের হাত ধরে মামী শাপলা বেগম (২২) নিরুদ্দেশ হয়েছে। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে চাঞ্চল্যেকর এঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, কলেজপড়ুয়া আরাফাত প্রামাণিকের প্রেমের জালে জড়িয়ে পড়েন এক সন্তানের মামী শাপলা বেগম। দীর্ঘদিনের প্রেমের অথৈ জলে গোপনে হাবুডুবি খাচ্ছিলেন মামী ভাগ্নে। এরইমধ্যে তাদের গভীর প্রেম ভালবাসাকে সামাজিক ভাবে স্বীকৃতির জন্য স্বামীকে একা করে শিশুকন্যাকে নিয়ে ভাগ্নে আরাফাতের প্রেমের সাগরে গা ভাসান মামী শাপলা। উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের এঘটনা নিয়ে কেউ গলা ছেড়ে আবার কেউ গুনগুন করে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া সেই পুরাতন গানের স্মৃতিচারণ করে গাইছেন‘ওই দেখা যায় সোনার ভাগ্না আইসো আমার বাড়ি রে, পাগল করলো ভাগ্না রে। এই গানটি এখন কৌতূহলী ছোট বড় সকলের মুখে মুখে।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহোদীপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোপালপুর গ্রামের খাজা মিয়ার মেয়ে শাপলা খাতুনের সঙ্গে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের মৃত সফিয়াজ্জামানের ছেলে হারুন অর রশিদ শাহিনের প্রায় ৪ বছর আগে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। তাদের ৩ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সাংসারিক কাজে বিভিন্ন সময়ে মামা শাহিন বাড়িতে না থাকার সুযোগে ধাপেরহাট ইউনিয়নের তাঁতীপাড়া গ্রামের রেজা প্রামাণিকের অনার্স পড়ুয়া ছেলে— ভাগ্নে আরাফাত প্রামাণিক প্রায়ই মামার বাড়িতে অবাধে যাতায়াত করতেন। সেই সুবাদে ভাগ্নে- মামীর মধ্যে গোপনে গড়ে উঠে গভীর প্রেমের সম্পর্ক । একপর্যায়ে সকল ভেদাভেদ ভুলে ভাগ্নে মামী স্বামী- স্ত্রী রূপে সংসার পাতানোর স্বপ্ন নিয়ে ঘরছাড়া হওয়ায় গোটা এলাকায় বেশ আলোচনা সমালোচনার ঝড় তুলছেন। এমন প্রেম কাহিনী নিয়ে কেউ গাইছেন গান, আবার কেউ কেউ ঘটনার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শাপলা বেগমের স্বামী হারুন অর রশিদ শাহিন জানান, ‘ঘটনার দিন আমি বাড়িতে না থাকার সুযোগে ঘরে থাকা গচ্ছিত টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও আমার শিশু কন্যাকে নিয়ে শাপলা পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত আরাফাত প্রামাণিক ও তার বাবা রেজা প্রামাণিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধাপেরহাট ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান বলেন, লোকমুখে এমন একটা ঘটনা শুনেছি। তবে ঘটনাটি খুবই লজ্জ্বাজনক।