
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের পাশে বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশুর চামড়া ফেলে রাখার ঘটনায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও আমবাগানের শ্রমিকদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে। দ্রুত চামড়াগুলো অপসারণ না করা হলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পিছলীডাঙ্গা-সাহাবাজপুর গ্রামীণ পাকা সড়কের পাশে জামালের আমবাগান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ধারে প্রায় এক ট্রাক পরিমাণ গরু, ছাগল ও ভেড়ার চামড়া স্তূপ করে ফেলে রাখা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে পড়ে থাকায় চামড়াগুলো পচতে শুরু করেছে এবং আশপাশের এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনের রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তি বা একটি চক্র বস্তাভর্তি এসব চামড়া সেখানে ফেলে রেখে যায়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা বস্তাগুলোকে আমবাগানে ব্যবহারের জন্য রাখা সারের বস্তা মনে করেছিলেন। পরে কুকুর ও শিয়াল বস্তা ছিঁড়ে ফেললে ভেতরে থাকা পশুর চামড়া বেরিয়ে আসে। কয়েকদিনের মধ্যে সেগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।
এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২২টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। বর্তমানে দুর্গন্ধের কারণে পথচারীদের চলাচলে চরম অসুবিধা হচ্ছে। এছাড়া পাশের আমবাগানে কর্মরত শ্রমিকরাও অস্বস্তিকর পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত অপসারণ না করা হলে পচনশীল বর্জ্য থেকে রোগজীবাণু ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া এভাবে উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখা অত্যন্ত দায়িত্বহীনতার পরিচয়। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি দ্রুত চামড়াগুলো অপসারণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সাপাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জনদুর্ভোগ ও পরিবেশ দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।