
হেলেনা আক্তার দীর্ঘদিন যাবত স্বামী সন্তান নিয়ে হাজি রোডের ঝিলপাড় বস্তিতে বসবাস করেন। স্বামীর চায়ের দোকানের আয় দিয়ে চলে সংসারের সব খরচ। সেই রুটি রুজির চায়ের দোকানটি যেন তার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। দখলবাজ, মাদক ব্যবসায়ী চক্রটি চায়ের দোকান ও তার ঘর দখলে নিতে মড়িয়া হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে তার চায়ের দোকান দখল করে রিক্সার গ্যারেজ নির্মানের পায়তারা করছে অভিযুক্তরা। চক্রটি দোকান ছেড়ে দেয়ার জন্য নানা ভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। ভুক্তভুগি হেলেনার পুরো পরিবার চায়ের দোকানের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা ছাড়াতে রাজি না হলে বিভিন্ন ভাবে তার পরিবারের লোকজনের ক্ষতি করার পায়তারা করতে থাকে। উক্ত বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় দখলবাজ চক্রের সাথে একাধিকবার আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় হেলেনার পরিবার।
এমনিভাবে চলতে থাকা অবস্থায় গত ২৩’শে ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত্রি ২ টার সময় অভিযুক্তরা বে-আইনী ভাবে দলবদ্ধ হয়ে লাঠি, ধারালো কেচি নিয়ে হেলেনার বাসার সামনে এসে বাসার দরজায় আঘাক করে। উক্ত সময় তার মেয়ে মুক্তা আক্তার বর্ষা (১৮) দরজা খুলে দিলে ঘরে অনধিকার প্রবেশ করে এলোপাথারী মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেলা ফুলা কাটা জখম করে। এসময় সজিবের হাতে থাকা ধারালো কেচি দিয়ে হত্যার উদ্দ্যেশে ভুক্তভুগিকে এলোপাথারী আঘাত করে। এতে কেচির ধারালো দিক হেলেনার পিঠের বিভিন্ন স্থানে লেগে গুরুতর রক্তাক্ত কাঁটা জখম হয়। হেলেনাকে রক্ষার জন্য তার মেয়ে মুক্তা আক্তার বর্ষা এগিয়ে এলে ধারালো কেচি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মেয়েকেও এলোপাথারী আঘাত করে। সজিবের কেচির আঘাত হেলেনার মেয়ে মুক্তার বুকে, পিঠি ও বাম হাতের তালুতে লেগে রক্তাক্ত কাঁটা জখম হয়। এসময়ে মোঃ জহির তার পড়নের কাপড় টানা হেচরা করে শ্লীলতাহানী ঘটায় এবং শামীম হেলেনার মেয়ের পড়নের কাপড় টানা হেচরা করে শ্লীলতাহানী ঘটায়। তাদের ডাকচিৎকার শুনে হেলেনা স্বামী মোঃ ইউনুছ (৫০) দোকান বন্ধ করে দ্রুত বাসায় এসে তাদের রক্ষার চেষ্টা করলে তার স্বামীকেও এলোপাথারী মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেলা ফুলা জখম করে। সজিব তার স্বামীকে টেনে হিচরে ঘরের বাহিরে নিয়ে হাতে থাকা কেচি দিয়ে আঘাত করলে হেলেনা স্বামীর পিঠে রক্তাক্ত কাটা জখম হয়। উক্ত সময় আলাউদ্দিন তার স্বামিকে লাথি মেড়ে বাসার দুইতলা নিচে ফেলে দেয়। তাদের শোরগোল শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামীগণ তার পরিবারের লোকজনদের সুযোগমত পেলে খুন করবে বলে হুমকি প্রদান করে চলে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভুগি সপরিবারে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে।
এ ঘটনায় ৮ জনের উল্লেখ্য করে শাহআলী থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভুগি পরাবার। আসামী হলেন ১। মোঃ সজীব (২৫), ২। মোঃ জহির উদ্দিন (৪০), ৩। মোঃ লতিফ (৬০), ৪। মোঃ শামীম (৩০), ৫। আলাউদ্দিন ও শাহীন (২৮), ৬। লিটন ও গাঁজা লিটন (২৬),৭। পরভীন আক্তার (৩০), ৮। আলামিন (২৮), সহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করে। পরে ওসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তার নির্দেশেই তিনদিন পর মামলা হয়।যার মামলা নং – ৫, তারিখ ২৬/২/২০২৬।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন যাবত হাজী রোডের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে অবৈধ বিদ্যুতের মাধ্যমে রিক্সার গ্যারেজ পরিচালনা করে বিদ্যুৎ অপচয়ের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে
লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক হয়েছে। শুধু তাই নয় ঘর দখল করে ঘরের ভিতরে মাদক সেবনেরও সুযোগ করে দিয়ে থাকে তারা। অবৈধ টাকার জোরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে হাজী রোডে এই চক্রটি। এছাড়াও এই চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকসহ দখল চাঁদাবাজীর মামলাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম “আজকের কাগজকে” বলেন, অনিয়ম, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদক ব্যবসা করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আইন সবার জন্য সমান, নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স নীতি ধারণ করে থানায় কাজ করছি। জনগণকে সেবা দেওয়াটাই তার মূল দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।
Leave a Reply