
ইতালির ভেনিসে সপরিবারে হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কয়েকজনকে দায়ী করেছেন তিনি। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান বাঁধন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বাঁধন জানান, তিনি বর্তমানে নিরাপদে আছেন ও হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে নেবেন।
বাঁধন বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে পরিচয় দেওয়া যারা, তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমার জন্য আমার ছোট ভাইয়ের পরিবার ও তার ছোট্ট সন্তান যেভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছে। এটা মেনে নেওয়ার মত নয়। আমি থানায় কেস ফাইল করবো। এখানকার অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটার শেষ আমি দেখে ছাড়ব।’
বাঁধন জানান, ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ তাকে সহযোগিতা করেছে। এমনকি গত রাতে পুলিশ তাকে একটি নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। আজ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে থানায় গিয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
অভিনেত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সমস্ত এভিডেন্স আছে এবং আমরা এরই মধ্যে অনেকজনকে আইডেন্টিফাই করেছি। বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর আমাকে ফোন করেছেন। তাঁর অফিস থেকেও লোক এসেছে। তাদের সঙ্গে আমি থানায় যাচ্ছি কেস ফাইল করতে।’
ঘটনার পর দেশ ও দেশের বাইরে থেকে যারা তার খোঁজ নিয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘গতকাল থেকে ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর অনেক মানুষ আমাকে ফোন করছেন, আমার খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমি কেমন আছি, কোথায় আছি—সব জানতে চাইছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমি ঠিক আছি।’
নিজের মানসিক দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার মাথা কখনো নত করিনি। আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়। বাঁধন সাহস হারানোর জন্য জন্মায়নি।’
বাঁধন আরও বলেন, দেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনে তিনি গর্বিত। তাঁর কথায়, ‘আমি মনে করি, আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি। কারণ আমার দেশের মানুষ আমার বিপদে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য সবার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।’
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বিষয়টিও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি মনে করি, এটা আমার জীবনে নেওয়া কিছু সঠিক সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি। আমি একজন গর্বিত জুলাইযোদ্ধা।’
তবে নিজের চেয়ে ছোট ভাই, তার স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাই তাঁকে বেশি নাড়া দিয়েছে বলে জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই, তার স্ত্রী এবং তার তিন বছরের বাচ্চা যেভাবে অ্যাসল্টেড ও হ্যারাসড হয়েছে, সেটার জন্য আমি মারাত্মকভাবে আপসেট।’
শেষে বাঁধন আবারও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দৃঢ়তার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটা শেষ, আমি দেখে ছাড়ব। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন।’